কলকাতা 

‘‘আমি বাংলায় আছি ; আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে এনআরসি করতে হবে ; সিএএ প্রত্যাহার করতে হবে; যতক্ষণ না সিএএ প্রত্যাহার করা হবে, ততক্ষণ আমরা রাস্তায় থাকব।’’: মমতা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আজ বেলা ১ টায় ময়দানে বি.আর আম্বেদকরের মূর্তি মালা দিয়ে মিছিল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী । এই মিছিলে ছিল বাঁধ ভাঙা মানুষের ভিড় । মিছিল শেষ হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি জোড়াসাঁকোতে । পথে নেমেই মমতার চমক । দেখিয়ে দিলেন বাংলায় তার কোনো বিকল্প নেতা বা নেত্রী নেই । কী দিলীপ ঘোষ , বা মুকুল রায় তাঁর জনপ্রিয়তার কাছে বাংলায় ম্লান হয়ে যাবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ।

মিছিল শেষে ঠাকুর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মমতার ঘোষণা , ‘‘আমি বাংলায় আছি। আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে এনআরসি করতে হবে। সিএএ করতে হবে।’’ জোড়াসাঁকো পৌঁছে মঞ্চে ওঠেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িকে সাক্ষী রেখে কয়েকটা কথা বলতে এসেছি। এক সময় যখন বঙ্গভঙ্গ হয়েছিল, হিন্দু মুসলিমের হাতে রাখি পরিয়ে ‘বাংলার মাটি-বাংলার জল’ গান গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।’’

এরপরেই তৃণমূল নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘হঠাৎ আজ কী হল? বিজেপি ক্ষমতায় এসে নিজেদের আকাশের চেয়েও বড় ভাবছে। হিন্দুস্তান হমারা হ্যায়। অগর সব কা সাথ নেহি রহেগা, তো সব কা বিকাশ ক্যায়সে হোগা?’’

ভারতের নাগরিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন , ‘‘আপনারা ভোট দেন না? ভোটার তালিকায় আপনার নাম নেই? আপনার ছেলেমেয়ে স্কুলে পড়ে না? আমরা সবাই নাগরিক। আপনি আবার কিসের নাগরিকত্ব দেবেন?’’

রাজ্যের সাম্প্রতিক অশান্তি প্রসঙ্গে জোড়াসাঁকোর মঞ্চে মমতা বলেন, ‘‘আমরা হিংসা সমর্থন করি না। আমার কাছে প্রমাণ আছে, আপনাদের-আমাদেরই কেউ কেউ বিজেপির টাকা খেয়ে এ দিক ও দিক আগুন জ্বালাচ্ছে।’’

তিনি আন্দোলনের নামে আইন ভাঙার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে বলেন, ‘‘কেউ দয়া করে ট্রেনে আগুন জ্বালাবেন না। অধিকাংশ ট্রেন ভারত সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। বার বার বলছি, ট্রেনে আগুন দেবেন না। পোস্ট অফিসে আগুন দেবেন না। রাস্তায় আগুন দেবেন না। যাঁরা আপনার পক্ষে রয়েছেন, তাঁদের সমস্যা ফেলছেন কেন?’’

মমতা বলেন, ‘‘সিএএ প্রত্যাহার করতে হবে। যতক্ষণ না সিএএ প্রত্যাহার করা হবে, ততক্ষণ আমরা রাস্তায় থাকব।’’

নাম না করে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন ,‘এখানে আর এক জন বিজেপি নেতা এসেছেন, বলেছেন, ‘সাবধান করে দিচ্ছি। কেন আগুন জ্বলছে?’ আমি বলছি, আগে অসমকে গিয়ে বলো। সেখানে তোমার সরকার রয়েছে।’’

তিনি এদিন কার্যত বিজেপি চ্যালেঞ্জ করে বলেন , ‘‘আমাদের সরকারকে ফেলে দেবে? ফেলে দিন। এই ইস্যুতে আমরা যে লড়াই করছি, তা থামবে না আর।’’

আবার রাজ্যপালের নাম না করে মমতা বলেন, ‘‘আমাকে জিজ্ঞেস করছে সিআইএসএফ লাগবে? সিআরপিএফ লাগবে? বিএসএফ লাগবে? আমি বলছি, লাগবে না। আমাদের পুলিশই যথেষ্ট। আমাদের সাধারণ মানুষ পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে সব ঠিক করে নেবে।’’

তিনি বলেন, বিজেপি বাংলা দখল করার প্লান করছে আপনারা রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠান । তাহলে তাঁর ভাষায়‘‘বাংলা দখল করার প্ল্যান ভেস্তে দেব। সবাই রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠান।”

তিনি নাম না করে আবার মিমকে টার্গেট করে বলেন , ‘‘আমি সবাইকে ক্ষমা করি। কিন্তু বিজেপির দালালদের ক্ষমা করি না।’’

মমতা আরও  বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি মানি না। ধর্ম যার যার আপনার, সংবিধান সবার।’’

এদিনে মিছিলে অসংখ্য মানুষ যোগ দিয়েছিল । তৃণমূল দলের শাখা সংগঠনের নেতারা সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় , সুব্রত বক্সী সহ নেতৃত্বের সকলেই এই মিছিলে যোগ দেন । এছাড়া জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের যোগদান ছিল চোখে পড়ার মত । এক কথায় মমতা আবার প্রমাণ করলেন এই বাংলায় মমতার বিকল্প তিনি ছাড়া আর কেউ নেই ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment