কলকাতা 

‘‘ যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’’ : মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ করলে তাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথা দূর্বলতা ভেবে গত দুদিন ধরে কয়েকটি মুসলিম সংগঠন রাজ্য জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । গতকালের পর আজও রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর –অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে । এই প্রেক্ষাপটে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন । আজ শনিবার বিকেলে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা এ দিন বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বাংলায় কোনও ভাবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরী হতে দেবেন না বলেও এ দিন ফের এক বার জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘ভুল বোঝাবুঝি করবেন না, কোনও রকম উত্তেজনা ছড়াবেন না, কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না, সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে কান দেবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন, বাংলায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বাংলায় কার্যকরী হচ্ছে না। এখানে আমাদের সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার আইন পাশ করলেও রাজ্যকেই তা কার্যকর করতে হয়। আমরা এখানে এনআরসি বা ক্যাব করতে দেব না তা বলেই দিয়েছি। তাই নিশ্চিন্তে থাকুন। রাস্তা ব্লক করবেন না দয়া করে। আইন হাতে তুলে নেবেন না। এতে মানুষের অসুবিধা হয়। মানুষ ভাল থাকুন এটাই আমাদের ইচ্ছা। আসুন সবাই মিলেমিশে থাকি।’’

অবশ্য শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম সংগঠনগুলি আন্দোলনের নামে বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্য সরকারকেই খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘‘এই মুহূর্তে রাজ্যে যা ঘটছে, তাতে অত্যন্ত আহত আমি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ায় সংবিধানের উপর আস্থা থাকা উচিত ওঁর। তবে রাজ্যপাল হিসাবে সংবিধান এবং আইন রক্ষা করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করব আমি।’’

তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো মন্ত্রীরা। তাঁদের দাবি, দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment