দেশ 

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে জনজাতির গোষ্ঠীর ডাকা বনধ ঘিরে উত্তাল দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য , নামল সেনা , সিদ্দিকুল্লাহর দাবি কী বাস্তবে রূপ পেল ? কী বলেছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কয়েক দিন আগে জমিয়তের নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি মন্তব্য করেছিলেন , এনআরসি আর ক্যাব-ই বিজেপির দাফন করে দেবে । চৌধুরি সাহেবের এই মন্তব্য যে এত তাড়াতড়ি সত্যে পরিণত হবে তা রাজনৈতিক মহল বুঝে উঠতে পারেনি । বাস্তবে দেখা যাচ্ছে , নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সমগ্র ভারত উত্তাল হতে চলেছে । গত দুদিন ধরে ত্রিপুরা ও অসমে জনজাতিদের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে দুই রাজ্য । বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই শান্তি রুখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য প্রশাসন । পরিস্থিতি সামলাতে সেনা নামানো হল অসম ও ত্রিপুরার বেশ কয়েকটি এলাকায় । সেনা নামানো হয়েছে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর ও মনু এলাকায়। আর দুই কলাম সেনা নামানো হয়েছে অসমের বঙ্গাইগাঁও ও ডিব্রুগড়ে। এদিকে আজ জনজাতি গোষ্ঠীগুলির ডাকা বন্ধকে ঘিরে দুই রাজ্যে অশান্তি চরমে উঠেছে । বিভিন্ন এলাকায় অ-জনজাতিদের বাড়ি-ঘর –দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা । ইন্টারবন্ধ করেও বিক্ষোভ সামাল দিতে পারেনি প্রশাসন । বাধ্য হয়ে সেনা নামানো হয়েছে ।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘ডিব্রুগড়ের লাহোওয়ালে সেনা নামানো হয়েছে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সহায়তা করবে। শান্তি বজায় রাখতে বাহিনী এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করবে।’’ উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে উন্মত্ত বন্‌ধ সমর্থকদের হঠাতে পুলিশকে শূন্যে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয় বলে জানান এসডিএম অভেদানন্দ বৈদ্য। কাঞ্চনপুরের আনন্দবাজার এলাকায় আতঙ্কিত অ-জনজাতি বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে না পেরে থানায় এসে আশ্রয় নেন। দশদা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন ৭০টি পরিবার। তাঁদেরকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বন্‌ধ সমর্থকরা।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে গুয়াহাটিতেও পথে নেমে পড়েছেন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-সহ বেশির ভাগ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। রাজধানী দিসপুরে যাওয়ার পথে মূল সড়ক গুয়াহাটি-শিলং রোড অবরোধ করেছেন তাঁরা। অবরোধ ওঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। ডিব্রুগড়ের চাউলধোওয়ায় পুলিশের লাঠিতে গুরুতর জখম হয়েছেন জনাকয়েক ছাত্র। বিক্ষোভের জেরে ডিব্রুগড় ও গুয়াহাটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যাবতীয় পরীক্ষা অর্নির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তর ত্রিপুরার ধলাই জেলার মনুঘাট এবং ৮২ মাইল বাজারে একের পর এক দোকানে আগুন লাগায় বন্‌ধ সমর্থকরা। ভাঙচুর করে লুটপাট চালানো হয়। পুলিশ শতাধিক অবরোধকারীকে গ্রেফতার করেছে। যাতে কোনও গুজব না ছড়ায় তার জন্য ত্রিপুরায় মোবাইল ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। দক্ষিণ ত্রিপুরার সিপাহিজলায় বন্‌ধ সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় দু’বছর বয়সী একটি অসুস্থ শিশুর মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে।

ধলাই জেলার লংতরাই ভ্যালির ৮২মাইল বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ করার জন্য প্রথমে হুমকি দেওয়া বলে জানান এক ব্যবসায়ী। পরে তারা ৩২টি দোকানে ভাঙচুর চালায়। বাজারে আগুন লাগায়। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুরও করা হয়। ফল ব্যবসায়ী অন্য দিকে, মনুঘাট বাজারেও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পরে হামলাকারীদের হঠাতে পুলিশ লাঠি চালায় বলে জানান ধলাইয়ের এসপি কিশোর দেববর্মা।

কাঞ্চনপুরে এসডিএম অফিসের সামনে পথ অবরোধ করে বন্‌ধ সমর্থকরা। বেলা ২টো পর্যন্ত অফিসে কেউ ঢুকতে পারেননি। লালঝুরি, দশদা এবং আনন্দবাজার থেকে কাঞ্চনপুরমুখী সমর্থকদের পুলিশ বাধা দেয়। এরপরেই তারা লাঠি, টাঙি, দা’ নিয়ে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। কাঞ্চনপুর, দশদা ও আনন্দবাজার এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে তারা। দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করে। বাজারে ঢুকে তারা সমস্ত দোকানপাট তছনছ করে দিয়েছে। তাদের আক্রমণে ১৩ জন জখম হয়। কয়েকটি গাড়িতেও তারা আগুন ধরায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, টিএসআর এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নামেন কাঞ্চনপুরের এসডিএম অভেদানন্দ বৈদ্য। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তারা ইট, পাটকেল, পেট্রল বোমা ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শূন্যে দশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। কাঞ্চনপুর এবং আনন্দবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পাশাপাশি, সিপাহিজলা জেলার দেওয়ানবাজারে বন্‌ধ সমর্থকদের ছোড়া কাঁচের বোতল, গুলতি এবং ইটপাটকেলের আঘাতে তিনজন পুলিশ কর্মী জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment