অন্যান্য 

লোকসভা নির্বাচনে মহম্মদ সেলিমকে হারানোর জন্য কংগ্রেস ,সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়ার খেসারত দিতে হল সদ্য সমাপ্ত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : সদ্য সমাপ্ত রাজ্যের উপনির্বাচনে কোনোভাবেই দাগ কাটতে পারল না কংগ্রেস –সিপিএম । তিনটি কেন্দ্রেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হল তৃণমূল কংগ্রেস । আর দ্বিতীয় স্থানে এল বিজেপি । ভোট বেড়েছে বিজেপি-র । তুলনায় জোটের ভোট আরও কমেছে । কংগ্রেস –সিপিএম জোট করেও কেন ভাল ভোট টানতে পারল না ?  এর কারণ হল , কংগ্রেস-সিপিএমের জোটকে মানুষ মেনে নেয়নি । গত লোকসভা নির্বাচনে এই জোট হলে রাজ্যে প্রাসঙ্গিতা পেত দুই দল । কিন্ত তা না করে কংগ্রেস নেতারা মহম্মদ সেলিমকে হারানোর লক্ষ্যে সোমেন মিত্র –দীপা দাশমুন্সীরা সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেঙে দেয় ফলে মানুষ বিকল্প বিজেপি ও তৃণমূলকে বেছে নেয় । বিজেপি একধাপে ২ থেকে ১৮ আসন পাওয়ার নেপথ্যে সোমেন –প্রদীপদের অবদান কোনোভাবে অস্বীকার যাবে না । প্রদেশ কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বিলীন হয়ে গেছে । এখানে মুসলিমদের সেই অর্থে ঠাঁই দেওয়া হয় না । কংগ্রেসের মুসলিম নেতাদের তেমনভাবে গুরুত্ব দেয়নি প্রদেশ কংগ্রেস । মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য তারা তেমন কোনো ভূমিকা নেয়নি ।

সোমেন মিত্রের কংগ্রেস আসলে নেহেরুজির আদর্শকে সরিয়ে রেখে পশ্চিমবাংলায় রাজনীতি করতে চাইছেন । ফলে কংগ্রেস আরও দূরে সরে যাচ্ছে । অধীর চৌধুরির নিজস্ব ক্যারিসীমায় মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস দল নিজেদের অস্বস্তিকে টিকিয়ে রাখলেও আর কোথাও তারা টিকে নেই । তবে কংগ্রেসের রাজনীতির জন্য মুসলিমদের মধ্যে যে বিরক্তি বাড়ছে তাতে মুর্শিদাবাদও কতদিন ধরে রাখতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।

রাজনীতি পাশা পাল্টে গেছে । এখন আর বিধানভবনে বসে রাজনীতি হয় না । এটা বুঝতেই পারছেন না সোমেন –প্রদীপরা । লালঝান্ডার পাশে ছবি তুলেও মানুষের কাছাকাছি পৌছানো যায় না এটা উপলদ্ধি করতে পারছেন না বিধানভবনের কর্তারা । কংগ্রেসকে খানিকটা জনমত ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই দরকার মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো । তা তারা করছেন না । তারা ভাবছেন এটা করলে হিন্দু ভোট চলে যেতে পারে । আসলে বিজেপির যে হিন্দু তাস সেটা কংগ্রেসের দিকে কোনোদিনই ঘুরবে না এটা ভাবার অবকাশ পাচ্ছেন না কংগ্রেস নেতারা । এটা তো মানতেই হবে কংগ্রেসের সাংগঠনিক বেশ মুসলিম প্রধান কয়েকটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ । সেখানে নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে হলে সংখ্যালঘুদের স্বার্থে আন্দোলনটা জরুরি ছিল । তা করেনি । অবশ্য সোমেন মিত্র ও প্রদীপ ভট্টাচার্যরা মনে করেন পীর সাহেবদের সভায় গেলে তাদের ভোট বাড়বে । কিন্ত তাঁরা জানেন না এই রাজ্যে মুসলিমদের কাছে পীর সাহেবরা ধর্মীয় ভাবে সম্মানের পাত্র হলেও ভোট দেওয়ার সময় নিজেদের স্বার্থে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে । আর পীর সাহেবরা কেউ মাটির সঙ্গে যুক্ত নন , তাঁরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখকে উপলদ্ধি করতে পারেন না । ফলে তাঁদের কথায় ভোট বাড়লে ২০১৬তেই সিপিএম –কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় এসে যেত ।

সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে ব্যর্থ বলা যেতেই পারে । কংগ্রেস কর্মীরা যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিল সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর তাদের সেই প্রত্যাশা ফিকে হয়ে গেছে । লোকসভা নির্বাচনে আত্মঘাতী রাজনীতির শেষ পরিনত-ই হল কংগ্রেস এই রাজ্যে সাইনবোর্ডে চলে গেল । কংগ্রেস আগামী দুই দশকেও এই রাজ্যে আর দ্বিতীয় স্থানে আসতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment