কলকাতা 

বাংলার জনরব –এর উদ্যোগে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের জন্ম শতবর্ষ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট ; বাংলার প্রশাসনে সংখ্যালঘু সমাজকে প্রথম গুরুত্ব প্রদান করেন সিদ্ধার্থশংকর রায়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : সিদ্ধার্থশংকর রায় বাংলার রাজনীতিতে ধর্ম-নিরপেক্ষ মুখ । তাঁর জন্ম শতবর্ষে বাংলার জনরব নিউজ পোর্টাল ও সজাগ মঞ্চের উদ্যোগে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । এই আলোচনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি , প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলী , অধ্যাপক কুমারেশ চক্রবর্তী , রাজ্যসভার সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান , অধ্যাপক মনিরুজ্জামান , জামাত-ই-ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আবদুর রফিক , আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক ড. সাইফুল্লাহ , অধ্যাপক ড. সাফায়েত আলী , শিক্ষক মোফাক্কের হোসেন , মাওলানা আবদুল ওহাব , তাজাম্মুল হোসেন , ড. সেখ আহমদ আলী , সমাজসেবী রইস মোল্লা , মোজাফফর হোসেন , আবু সালেহ রিজওয়ানুল করিম প্রমুখ ।

এদিনের সভার সভার সূচনায় স্বাগত ভাষণ দেন  , সাংবাদিক ও বিশিষ্ট লেখক মুহাম্মদ সাদউদ্দিন । তিনি বলেন , বাংলা তথা ভারতে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে কয়েক জন রাজনীতিবিদ কাজ করেছেন তাদের মধ্যে সিদ্ধার্থ শংকর রায় অন্যতম । সিদ্ধার্থশংকর রায়ের স্বপ্ন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলায় সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হত ।

অধ্যাপক কুমারেশ চক্রবর্তী বলেন , সিদ্ধার্থশংকর রায়ের মত উদার মনের রাজনীতিবিদ দেশে আজ সত্যিই বিরল । তিনি প্রশাসক হিসাবে যেমন সফল হয়েছেন একইভাবে একজন হৃদয়বান মানুষ হিসাবে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন । নিজের এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সিদ্ধার্থশংকর রায় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কতখানি সফল হয়েছেন তার বিবরণ দেন । একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন এই রকম একজন মহৎ মানুষ জন্ম শতবর্ষে বিস্মৃত । তাকে একমাত্র বাংলার জনরব মনে রেখেছে দেখে আমরা আপ্লুত ।

এদিনের সভার উদ্বোধক সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন , সিদ্ধার্থশংকর রায় এমন একজন মানুষ ছিলেন যার সংখ্যালঘু সমাজের প্রতি দরদ ছিল । তিনি ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ রক্ষায় তৎপর হয়েছেন । তাঁর স্মরণ সভা শুধু মাত্র বাংলার জনরব এককভাবে করল । এটা আমাদের ভাবতে হবে । সম্মিলিত ভাবে আগামী বছর আমরা তাঁর জন্য সংকলন করতে পারি এবং ডকুমেন্টারি করার উদ্যোগ নিতে পারি ।

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন , বাংলার সার্বিক বিকাশে সিদ্ধার্থশংকর রায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন । কোনো দিন মুসলিম সমাজকে বুঝতে দেননি তাদের সমস্যাকে । যেকোনো সমস্যা তাঁর সামনে আনলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার সমাধান করে দিতেন ।

বাংলার জনরব-এর সাম্মানিক সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম বলেন , স্বাধীনোত্তর ভারতে তিনি রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন , এদেশে সংখ্যাগুরুদের যে অধিকার আছে , সংখ্যালঘুদেরও সেই অধিকার আছে । তিনি এই রাজ্যে মাদ্রাসা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের স্কুল শিক্ষকদের মত সমবেতন দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ।

মাওলানা আবদুল ওহাব বলেন , সিদ্ধার্থশংকর রায় এই রাজ্যের মানুষকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন কিন্ত বর্তমান শাসকরা রাজ্যের সংখ্যালঘুদের কি দিয়েছেন ? রাজ্যসভার সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান বলেন , এই রাজ্যের মুসলিম রাজনৈতিক দলগুলির স্বাধীনোত্তর বাংলায় যেভাবে দ্রূত জনপ্রিয়তা পেয়েছিল , তাদের সেই দাবিগুলির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে সিদ্ধার্থশংকর রায় বাংলার সংখ্যালঘুদের সার্বিক উন্নয়নে ব্রতী হয়েছিলেন । এরফলে রাজ্যের মুসলিম ঘেঁষা রাজনৈতিক দলগুলির অস্বস্তির সংকট হয় । সেটা তিনি ঠিক করেছিলেন না , ভূল করেছিলেন তা ইতিহাস বলবে ।

এদিনের অনুষ্ঠানটিকে সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সাবিনা সৈয়দ , সহযোগিতায় ছিলেন আবদুল মান্নান । অনুষ্ঠানের সূচনায় উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন মনীষা চক্রবর্তী ও নাসিমা হালিম ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment