জেলা 

আলিমে নজরকাড়া সাফল্যের পর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে শাহিদ হোসেন মোল্লা, বাধা অর্থ

শেয়ার করুন
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আব্বা ক্যানসারে আক্রান্ত। বাড়িতে রোজগেরে বলতে সেরকম কেউ নেই। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় মাকে। তবুও ছেলে শাহিদের স্বপ্ন ডাক্তার হবে সে। নিজের গ্রামের দরিদ্র মানুষদের চিকিৎসার অভাবে যাতে ভুগতে না হয় সেদিকেই নজর দিতে চায় শাহিদ।
এবার মাদ্রাসা বোর্ড থেকে আলিম বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছিল ক্যানিংয়ের শাহিদ। নম্বরও পেয়েছে বেশ ঈর্ষণীয়। ৯০০ -র মধ্যে ৭২০ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। যার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে গণিতে। ওই বিষয়ে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৪। এখন তার স্বপ্ন একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনা করা। এর পর মেডিক্যাল নিটে সুযোগ পেয়ে ডাক্তারি পড়া। কিন্তু তার এই স্বপ্ন পুরণে মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অর্থ। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার পরিবারের পক্ষে কোনওভাবেই তা যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই কোনও সহ্ঋদয় ব্যক্তি যদি তাকে পড়াশুনায় সহযোগিতা করেন, সেই আর্জি জানিয়েছে শাহিদ।

মাদ্রাসা দারুল উলুম রাহমানিয়ার কর্ণধার মাওলানা মনোয়ার হোসেন

ক্যানিংয়ের ছেলে শাহিদ ঘুটিয়ারি শরীফে দারুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসা নামে একটি খারিজি মাদ্রাসায়  পড়াশুনা শুরু করে।  ওই মাদ্রাসায় কৃতিত্বের সঙ্গে পড়া শেষ করে সরকারি ডিগ্রি হাসিল করার লক্ষ্যে ঘুটিয়ারি শরীফের একটি সিনিয়র মাদ্রাসায় ভরতি হয় আলিমে। বরাবরই মেধাবী ছাত্র হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছে সে। কিন্তু তার জীবনে প্রথম কালো মেঘ নেমে আসে দশম শ্রেণীতে ওঠার পর থেকেই। বাবা টিউমারে আক্রান্ত হন। একদিকে বাবার চিকিৎসার খরচ যোগাতে অন্যদিকে ছেলের পড়াশুনার খরচ যোগাতে দেউলিয়া হতে হয় পরিবারকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দশম শ্রেণীতেই পড়াশুনা বন্ধ করে দিতে হত। কিন্তু সেই বিপদের সময়ে তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ঘুটিয়ারি শরীফের খারিজি  মাদ্রাসার কর্ণধার মাওলানা মনোয়ার হোসেন। ফের শুরু হয় পড়াশুনা। শেষ পর্যন্ত আলিম পরীক্ষায় বসে শাহিদ। আর ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সে। এখন শুধু স্বপ্ন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান ডাক্তার হয়ে দরিদ্র পরিবারের লোকজনের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা।


শেয়ার করুন
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment