দেশ 

উন্নাওয়ের অগ্নি দগ্ধ দ্বিতীয় ধর্ষিতার মৃত্যু হল , রাম মন্দির আন্দোলনের পীঠস্থানেই কেন নারীরা বারবার খুন-ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তার জবাব দেবেন কী যোগী-মোদী !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : পৃথিবী চলেই গেলেন যোগী রাজ্যের উন্নাওয়ের দ্বিতীয় নির্যাতিতা মেয়েটি । বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে যাচ্ছিলেন নির্যাতিতা । কিন্ত আদালতে যাওয়া আর হল না , প্রকাশ্যে দিবালোকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল মেয়েটিকে । দিবালোকে তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দিল যোগীর রাজ্যের দৃস্কৃতিরা । বিজেপি শাসিত রাজ্যের দুস্কৃতিদের এই তান্ডবের বিরুদ্ধে এবার পথে নামুক সাধারন মানুষ । আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশ এনকাউন্টার মেরে দিলে পুস্পবৃষ্টি হয় । তবে কেন উন্নাওয়ের ওই মেয়েটিকে যারা পুড়িয়ে মারল তাদেরকে প্রকাশ্যে গুলি করে মারা হবে না ?

আমরা অবাক হয়ে দেখছি প্রধানমন্ত্রী নীরব হয়ে আছেন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই । দেশের মানুষও নীবর কেন ? কেন আমার দেশের মেয়েরা প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হবে ? কেন মরতে হল ওই মেয়েটিকে ? কে জবাব দেবে ? যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্বের পোষ্টার বয় সেই রাজ্যের নারী কেন লাঞ্ছিত হবে ? যে রাজ্যে রামমন্দির তৈরি জন্য আন্দোলন হয় সেই রাজ্যে নারী কেন ধর্ষিত হবে । মোদী-যোগীকে এর জবাব দিতে হবে । কারণ দেশজুড়ে এক শ্রেণির মানুষ সরকারী ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে নারীদের উপর জুলুম করে চলেছে । উন্নাওয়ের মেয়েটি তো ইনসাফ চেয়েছিলেন কেন পেলেন না ?

আর ইনসাফের জন্যই তিনি আদালতে যাচ্ছিলেন । পথে আক্রান্ত হন । মানুৃষের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া মেয়েটিকে । তারপর গোটা গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুস্কৃতিরা । আগুন গায়ে নিয়ে এক কিমি পথ পেরিয়ে সে ছুটতে থাকে পথচারী তার পাশে দাড়িয়ে পুলিশকে খবর দেয় । তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল ।

গত কাল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও বাঁচানো গেল না উন্নাওয়ের নির্যাতিতা সেই তরুণীকে। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছে, আজ তার ১১টা ১০ মিনিটে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তরুণীকে পুড়িয়ে মারার পাশাপাশি তার পরিবারকেও লাগাতার হুমকি দিচ্ছে এক অভিযুক্তের পরিবার। নির্যাতিতার এক কাকা আজ অভিযোগ করেন, ওই তরুণীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ধৃত পাঁচ জনের অন্যতম শিবম ত্রিবেদীর পরিবার তাঁর দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ায় কাল সন্ধের মধ্যেই রিপোর্ট তলব করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আজ ডিভিশনাল কমিশনার মুকেশ মেশরাম জানান, ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে।

গত কালও এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। আজও তিনি বলেন, ‘‘গত ১১ মাসে শুধু উন্নাওয়েই ৯০ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সরকারকে ভাবতে হবে তারা মহিলাদের পাশে আছে, না কি অপরাধীদের।’’ প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও আজ প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment