কলকাতা 

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না , হায়দ্রাবাদের তরুণীর খুন ও ধর্ষণে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে গুলি করে মারার নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : হায়দ্রাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চার অভিযুক্তকে আজ ভোরে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলার পর সমগ্র দেশ জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে । প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের হেফাজতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই । চার অভিযুক্তের কঠিন শাস্তির পক্ষে দেশের সকল মানুষ । কিন্ত যেভাবে রাতের অন্ধকারে ভোরের আলো ফোটার এদেরকে পুলিশ গুলি করে মেরেছে তা নিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন উঠেছে । তাহলে দেশের আইনের প্রতি খোদ আইনের রক্ষকরা আস্থা রাখছে পারছে না । পুলিশের হেফাজতে এনকাউন্টার হয় কী করে ?  দেশ জুড়ে মোদী সরকার  কী পুলিশ কায়েম করতে চাইছে । নাকি দেশের আর্থিক মন্দাকে ঢাকা দেওয়ার কৌশলে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে ।

আর এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে যখন পুলিশের কাজের সমর্থনে পোষ্টার পড়ছে । ঠিক তখনই দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুন ও ধর্ষণ অভিযুক্ত ওই চারজনের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আজ শুক্রবার মেয়ো রোডে বি.আর আম্বেদকরের মৃত্যুদিন উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস । সেই সভায় মমতার বার্তা, নারীদের উপর যে কোনও ধরনের অত্যাচার যেমন তিনি সহ্য করেন না, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকেও সমর্থন করেন না। একই সঙ্গে পুলিশের প্রতি নির্দেশ, এই ধরনের ঘটনায় সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে হবে। উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদের সামশাবাদ এলাকায় তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। শুক্রবার ভোরে অভিযুক্ত চার জন পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেই খবরে তোলপাড় সারা দেশ। উঠে আসছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত। শুক্রবার বি আর অম্বেডকরের মৃত্যুবার্ষীকিতে মেয়ো রোডের একটি অনুষ্ঠান যোগ দিয়ে সেইই ঘটনা নিয়েই মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘এটা আইন নয়, যে আইনকে আমি নিজের হাতে তুলে নিলাম। আইন এটাই, পুলিশ তার কাজ করবে, আদালতে পেশ করবে। বিচারক বিচারকের কাজ করবেন।’’ পুলিশের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে দ্রুত চার্জশিট দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব। তিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে। কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে।’’ পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও সরকার যে কড়া হাতে তার মোকাবিলা করবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এটা জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। যে করবে না, তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে।’’

 

হায়দ্রাবাদের এই ঘটনার আগের দিনই আবার উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। মহিলাদের উপর অত্যাচার প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘আমি কোনও মহিলার উপর অত্যাচার সহ্য করি না। হায়দরাবাদ ও উন্নাওয়ের ঘটনা আমাকে নাড়া দিয়েছে। উন্নাওয়ের কেসটা জানত সবাই। তার পরেও কী ভাবে তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হল।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment