কলকাতা 

হাইমাদ্রাসার মেধাতালিকায় মুর্শিদাবাদ ও মালদার জয়জয়কার, পাশের হারে শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর

শেয়ার করুন
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অপেক্ষার অবসান। প্রকাশিত হল রাজ্য হাইমাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষার ফল। আজ সকাল ১১ টায় মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের অফিস রোকেয়া ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন পর্ষদ সভাপতি আবুতাহের কামরুদ্দিন। আলিম, ফাজিল ও হাইমাদ্রাসা মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষা দিয়েছিল ৬৪,৯৭৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে হাইমাদ্রাসার পরীক্ষার্থী ছিল ৫২,৫০২ জন, আলিম ফাজিল থেকে যথাক্রমে ৮৭৬০ ও ৩৭১২ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এদের মধ্যে মাদ্রাসায় পাশ করেছে ৮২.০৪ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার হাইমাদ্রাসায় পাশের হার বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। আলিমে পাশ করেছে ৮২.৬৭ শতাংশ। গতবারের তুলনায় আলিমেও পাশের হার বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। ফাজিলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৮৬.৮৮ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার পাশের হার প্রায় ৭ শতাংশ।

হাইমাদ্রাসায় প্রথম স্থানাধিকারী তৌফিক আনোয়ার ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মেহেবুবা ইয়াসমিন।

এবার হাই মাদ্রাসার মেধাতালিকায় মালদহ ও মুর্শিদাবাদেরর ছাত্র-ছাত্রীরাই দাপট দেখিয়েছে। এবার প্রথম দশে রয়েছে ১৪ জন। এর মুর্শিদাবাদের রয়েছে ৫ জন ও মালদার ৪ জন পড়ুয়া। এবার হাইমাদ্রাসা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে মুর্শিদাবাদের পামাইপুর হাইমাদ্রাসার তৌফিক আনোয়ার। ৮০০-র মধ্যে সে পেয়েছে ৭৫৩। দ্বিতীয় হয়েছে মালদার কামদিতলা হাই মাদ্রাসার মেহেবুবা ইয়াসমিন। তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৪৮। তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে মুর্শিদাবাদের ভাতশালা হাইমাদ্রাসার ওয়ালিউর রহমান। সে পেয়েছে ৭৪৭ নম্বর। মেরা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে তিনজন। এরা হলো মালদার ভগবানপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্র ফাহাদ হোসেন, মালদার অচিনতলা হাই মাদ্রাসার ছাত্রী মুসকান খাতুন ও পূর্ব মেদিনীপুরের গিমাগেড়িয়া ওয়েলফেয়ার হাইমাদ্রাসার সৈয়দ সোনু আলি। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৭৪৬। ৭৪৪ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে উত্তর দিনাজপুরের রাহাতপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্র মুহাম্মদ তৌফিক। ৭৪৩ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে হাতিশালা সরোজিনী হাই মাদ্রাসা পড়ুয়া মেসবাউর রহমান। সপ্তম স্থান অধিকার করেছে তাশনিয়া খাতুন। মুর্শিদাবাদের ভাবতা আজিজিয়া হাইমাদ্রাসার ছাত্রী তাশনিয়া। তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৪২। ৭৪১ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে ৩ জন। এরা হল কমল হাসান। মুর্শিদাবাদ আমিরা হাইমাদ্রাসার ছাত্র সে। মালদার বটতলা আদর্শ হাইমাদ্রাসার মাহবুবা সিদ্দিকা ও বাঁকুড়া সম্মিলনী হাইমাদ্রাসার ছাত্র সেখ মোজাফফর হোসেন। নবম স্থান অধিকার করেছে পূর্ব মেদিনীপুরের গিমাগেড়িয়া ওয়েলফেয়ার হাইমাদ্রাসার ছাত্র মুহাম্মদ ইউসুফ। তার প্রাপ্ত নম্বর ৭৪০। দশম স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদের তোপিডাঙ্গা হাই মাদ্রাসার ছাত্রী নাপিশা খাতুন। সে পেয়েছে ৭৩৯ নম্বর।

অন্যদিকে আলিমে প্রথম হয়েছে  হুগলির ফুরফুরা ফাতিহা সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র আবু বক্কর দালাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৮৪০। দ্বিতীয় হয়েছে ওই মাদ্রাসারই মুহাম্মদ সানোয়ার হোসেন পাইক। সানোয়ারের প্রাপ্ত নম্বর ৮৩৮। মুর্শিদাবাদের হোসেননগর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র তাহিরুদ্দিন পেয়েছে ৮০৯। সে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। এবারের ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙ্গা কেন্দ্রীয় সিদ্দিকীয়া হামিদিয়া রাহানা সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র নাজমুস শাদাথ। তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৫৭। দ্বিতীয় হয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মুস্তাফা। হুগলির ফুরফুরা ফাতিহা সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র সে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৫১। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ হজরত পীর আবু বক্কর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র ফারুক আবদুল্লাহ মন্ডল ৫৪৩ নম্বর পেয়ে এবারের ফাজিল পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।

হাইমাদ্রাসায় প্রথম স্থানাধিকারী তৌফিক আনোয়ােরের আব্বা গোলাম আম্বিয়া জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে প্রত্যেকদিন রুটিনমাফিক ৮ থেকে ১০ ঘন্টা করে পড়াশুনা করত ও। পড়ার জন্য কখনই ওকে জোর করতে হতো না। যখনই ভাল লাগত তখনই পড়তে বসত ও। আগামীদিনে আনোয়ারের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পাশের হারের নীরিখে এবারেও শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলায় পাশের হার ৯৪.৮৮ শতাংশ। এর ঠিক পরেই রয়েছে কলকাতায়। এখানে পাশ করেছে ৯৩.৭৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এর পরে পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বাকি জেলাগুলি। তবে পাশের হার সবচেয়ে কম দার্জিলিঙয়ে। পাশের হার মাত্র ৫৫.৫০ শতাংশ।

 


শেয়ার করুন
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment