কলকাতা 

তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন শোভন?-রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের সঙ্গে দূরত্ব খানিকটা কমে এলেও, নির্বাচন মিটতে না মিটতেই দলে ফের কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পরিবেশ, দমকল ও আবাসন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। যার অন্যতম কারণ পারিবারিক দ্বন্দ্ব। খাতায় কলমে তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি থাকলেও মহেশতলা উপনির্বাচনে দল তাঁকে কোনও ভূমিকাই দেয়নি। উপরন্তু মহেশতলায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মেয়রের শ্বশুর দুলাল দাসের হয়ে জমিয়ে প্রচার সারছেন শোভন পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রের গোলপার্কের বাড়িতে রত্না বহিরাগত নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তোলেন মেয়র। মেয়রের ঘনিষ্ঠ মহল  সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐদিন রাতেই তিনি কলকাতা পুলিশের এক কর্তাকে  ফোন করে বিষয়টি জানান। পুলিশ কর্তা দেখছি বলে ফোন কেটে দেন।  পরে তিনি পুলিশের আরও এক কর্তাকে ফোন করেন। তিনি বলেন ১০ মিনিট পর দেখছি। পুলিশ কর্তার কাছ থেকে এই ধরনের উত্তর পাওয়ার ঘনিষ্ঠমহলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তিনি। এরপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি জানালে শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের তরফে আলোচনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রে খবর, দলের এই ভূমিকাতেও সন্তুষ্ট নন কলকাতার মহানাগরিক। এর  জেরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। এই সমস্যার কথা তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে ব্যক্ত করেছেন।  সূত্রে খবর, তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেয়রের সাংসারিক জীবনে যে ঝড় উঠেছে, সেই ঝড়ে তছনছ হয়ে যেতে বসেছে তিলে তিলে গড়ে তোলা রাজনৈতিক ভিত।

প্রসঙ্গত, স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে কয়েক মাস আগেই আলিপুর আদালতে মামলা করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন। সম্প্রতি শোভন-রত্না কন্যা সুহানি চট্টোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরকে ঘিরে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবা হিসেবে মেয়ের ভিসায় সই করতে হবে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তিনি তা করতে রাজি হননি। এমনকি আদালতের নির্দেশের পরেও মেয়র মেয়ের ভিসায় সই করেননি। এর ফলে আটকে রয়েছে মেয়ের বিদেশ যাওয়া। কিন্তু মা রত্না চট্টোপাধ্যায় নাছোড়বান্দা। ভিসার জন্য তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে তিনি সই করাবেন। এজন্য বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রের গোলপার্কের বাড়িতে ধরনায় বসেন।  এরপরেও মেয়র ভিসায় সই করেননি বলে জানা গিয়েছে। মেয়রের আইনজীবীদের বক্তব্য, ভিসায় সই করলে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় সমস্যা হতে পারে। সেজন্যই করেছেন না মেয়র। মেয়রের এই আচরণেই ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতৃত্বও। এতেই মেয়রের রাজনৈতিক জীবনে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment