দেশ 

কেমন আছেন কাশ্মীরের মানুষ ? অজিত দোভালের রিপোর্ট বলছে , ভালো আছে ; গোলাম নবী আজাদ বলছেন ২০টি জেলায় কার্ফু , ফারুক আবদুল্লাহ তো কেঁদেই ফেললেন ; কাশ্মীরের সংবাদ মাধ্যমে কোনো আপডেট নেই ! বাকীটা জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কেমন আছেন কাশ্মীরের সাধারন মানুষ ? গতকাল ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর ক্ষোভ –বিক্ষোভ হচ্ছে কিনা তাও দেশের মানুষ জানতে চায় । কিন্ত কোনো খবর নেই । এদিকে শ্রীনগরে আছেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল । তিনি কেন্দ্র সরকারকে যে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাতে বলেছেন কাশ্মীরে কোনো অশান্তি নেই ।

এদিকে , গোলাম নবী আজাদ আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন , কাশ্মীরের ২০ জেলায় কার্ফু রয়েছে । সেখানে যোগাযোগ করার কোনো উপায় নেই । এমনকি তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি । অন্যদিকে কাশ্মীরের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ জানিয়েছেন , তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল । তিনি সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে ফেলেন । তিনি অভিযোগ করেন তাঁকে মারার চক্রান্ত হচ্ছে । যদিও সংসদে অমিত শাহ বলেছেন ,ফারুক আবদুল্লাহকে নজরবন্দী করা হয়নি ।

অন্যদিকে আজ সারাদিন চেষ্টা করে কোনো সাংবাদিক কাশ্মীমের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারেননি । কারণ ল্যান্ডফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড, কেবল— যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ। অধিকাংশ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমেও থেকে গিয়েছে পুরনো খবর। কাশ্মীরের এই অবরুদ্ধ অবস্থার শেষ হবে কবে, আপাতত উত্তর নেই কেন্দ্রের কাছে।

শুরু হয়েছিল রবিবার রাত থেকে। ওই দিনই ঘোষণা করা হয়, উপত্যকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু ঘোষণার বাইরেও ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ল্যান্ড ফোন, কেবল, ব্রডব্যান্ড পরিষেবা। তার পর থেকেই কার্যত বন্ধ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলি। অধিকাংশ ওয়েব পোর্টালেই রবিবার রাতের পরের আর কোনও খবর বা আপডেট নেই। কারণ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ।

‘রাইজিং কাশ্মীর’-এ এখনও প্রধান খবর মেহবুবা মুফতির বাড়িতে রবিবার রাতের সেই সর্বদল বৈঠক। বাকি খবরগুলিও ওই রাতের। ‘গ্রেটার কাশ্মীর’-এ শেষ আপডেট ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি সাজ্জাদ লোনদের গৃহবন্দির খবর। বাকি নিউজ পোর্টালগুলির অবস্থাও প্রায় একই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় রবিবার রাতের পর আর কোনও আপডেট হয়নি। অর্থাৎ প্রকৃত ছবিটা পাওয়া যাচ্ছে না সংবাদ মাধ্যমেও।

অন্য দিকে জাতীয় বা অন্য কোনও রাজ্যের যে সব সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা কাশ্মীরে গিয়েছেন, তাঁদেরও শ্রীনগর ছাড়া অন্য কোথাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের মাধ্যমে টুকরো টুকরো যে ছবি উঠে আসছে, সেগুলি থেকে সামগ্রিক কাশ্মীরের পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। সোমবারই গ্রেফতার করা হয়েছিল ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি-সহ বেশ কয়েক জন নেতা-নেত্রীকে। তাঁদের অজ্ঞাত জায়গায় রাখা হয়েছে বলে খবর। ফলে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধেরও উপায় নেই।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সমস্ত পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে এটা কার্যত জোর করে শান্তি বজায় রাখার শামিল। সমস্ত পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার পরে এই অবস্থা বজায় থাকলে তবেই প্রকৃত শান্তি ফিরবে। কবে পরিষেবা চালু হবে, আপাতত সেই প্রতীক্ষাতেই কাশ্মীরবাসী।

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment