কলকাতা 

আগামী লোকসভায় দেশে সরকার গড়তে নির্ণায়ক শক্তি হবে তৃণমূল কংগ্রেস, প্রধানমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ ওয়ায়েজুল হক

শেয়ার করুন
  • 204
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লোকসভা, বিধানসভার পর সদ্যসমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও রাজ্যের প্রায় সর্বত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় ৯৫ শতাংশ জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয়ে শাসক দল হিসাবে নতুন নজির সৃষ্টি করেছে তৃণমূল। কিন্তু এই বিপুল জয়ের পরেও শাসকদলের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জঙ্গলমহল। এই এলাকার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম এই তিনটি জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে ঘাসফুলকে প্রায় সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে পদ্ম শিবির। এছাড়া জঙ্গলমহল থেকে বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ আসনও দখল করেছে বিজেপি। আবার মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাতেও ভালো ফল করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও সাংবাদিক বৈঠকে বার বার দাবি করছেন, পঞ্চায়েতে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করল বিজেপি। আগামী লোকসভা নির্বাচন থেকেই পতন শুরু হবে তৃণমূল কংগ্রেসের। এই বিষয়ে তৃণমূূূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের নেতা তথা বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ওয়ায়েজুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হলে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন। বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়ায়েজুল হক খোলামেলা আলোচনা করলেন ‘বাংলার জনরব’ প্রতিনিধি শেখ মিজানুর রহমানের সঙ্গে-

প্রশ্নঃ এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে মালদা মুর্শিদাবাদ সহ বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাতেও ভালো ফল করেছে বিজেপি। তাহলে কি পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই বিজেপির জয়যাত্রা শুরু হলো?

ওয়ায়েজুল হকঃ  কেন্দ্রে চার বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি পরিচালিত সরকার। নোটবন্দী, জিএসটি চালু সহ দিন দিন পেট্রোল- ডিজেল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে কেন্দ্রের একের পর এক জনবিরোধী নীতিগুলি সম্পর্কে অবহিত রাজ্যের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অনেক বেশি বুদ্ধিমান, সচেতন। তাই তারা কখনই বিজেপিকে সমর্থন করবে না। তবে এটা ঠিক যে, কয়েকটি জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। তবে ওই সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে কি জন্য পরাজয় হয়েছে তা নিয়ে আত্ম সমালোচনা করবো আমরা।

প্রশ্নঃ দেশের অন্য রাজ্যগুলির মত এই রাজ্যের মুসলিমদের মধ্যেও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে তা শাসকদলের কাছে অশনিসংকেত। এই বিষয়ে কী বলবেন?

ওয়ায়েজুল হকঃ শুনুন, দলিত ও মুসলিমদের চরম শত্রু হচ্ছে আরএসএস ও বিজেপি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলিত মুসলিমদের উপর অত্যাচারের কথা সকলেই জানেন। এছাড়া বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বারবার বলছেন হয় ‘কুরআন’ ছাড়ো, নয় ভারত ছাড়ো। আবার দেখুুুন, মসজিদে জায়গার অভাবে হিমাচল প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে জুম্মার নামায হচ্ছিল মসজিদের বাইরে। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে জুম্মার নামায বন্ধ করে দিয়েছে। একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিজেপির এই ধরনের অত্যাচার কখনোই মেনে নেবে না। তাই মুসলিমরা কখনই বিজেপিতে যোগ দেবেনা। তবে যদি কোন মুসলিম ব্যক্তি বিজেপিতে যোগ দেয় তাহলে বুঝতে হবে, তার অন্য কোনো অভিসন্ধি রয়েছে। কিংবা আমার দৃঢ় বিশ্বাস তারা ধর্মপ্রাণ মুসলিম নয়।

প্রশ্নঃ পঞ্চায়েতে জয়ের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলছেন তারা নাকি আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে অন্ততপক্ষে ২২ টি আসনে জয়ী হবে। এবিষয়ে কী বলবেন?

ওয়ায়েজুল হকঃ আমার তো মনে হয় জোকস করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আসলে তো উনি আরএসএস এর ক্যাডার ছিলেন। তাই এধরনের বড় বড় কথা বলছেন। দিলীপ ঘোষকে মনে রাখতে হবে স্বপ্ন দেখা যতটা সহজ, তা বাস্তবায়িত করা ততটাই কঠিন। রাজ্যে ২২ টি আসন তো দূরঅস্ত, যে দুটি লোকসভা আসনে তাঁরা ক্ষমতায়় রয়েছেন, সেই দুটি আসনেও গোহারা হারবে বিজেপি। অন্যদিকে, রাজ্যের ৪২ টি আসনেই জয়ী হয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা গ্রহণ করবে তৃণমূল কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী পদে আমরা দেখতে পাই, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

প্রশ্নঃ এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে জানতে চাইব।কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী দিন কয়েক আগেই সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে অযোগ্য নন  তিনি। সেক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক আসন পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন?

ওয়ায়েজুল হকঃ এবার বলি শুনুন, কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী। অথচ দক্ষিণের এই রাজ্যে  কংগ্রেস জেডিএস এর দ্বিগুণের চেয়েও বেশি আসন পেয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কংগ্রেস জেডিএসকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে নিঃশর্ত সমর্থন করছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাবো মাত্র ২৩ টি আসন নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এইচডি দেব গৌড়া। এবারও বিজেপি বিরোধী যে জোট হচ্ছে তার কান্ডারি হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রদায়িক এই শক্তিকে হঠাতে মমতা দিদির বিকল্প কেউ নেই। তাই আগামী দিনে তিনিই হবেন দেশের আসল পরিচালিকা। তাঁর হাত ধরেই এগিয়ে যাবে দেশ।

 

 

 


শেয়ার করুন
  • 204
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment