কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

বাইশে শ্রাবণ অনুষ্ঠানে বাঙালি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আহ্বান

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : গত ৩ আগস্ট শনিবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের তিরোধান দিবস ২২শে শ্রাবণ উপলক্ষে এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের আশুতোষ হলে। শহরের কয়েকজন বিদগ্ধ বাঙালি এবং বহির্বঙ্গের কয়েকজন আমন্ত্রিত শিক্ষাবিদ বাঙালি, সাহিত্যিকের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপশি প্রতিবেশি রাজ্য অসমে এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এন আর সি লাগু করার কেন্দ্রীয় সরকারের সম্প্রতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মূলত বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলমানের ভাষা, সংস্কৃতির অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সবাই।

এদিন বিকেলে ৩টে থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ভারতে বাঙালি নিধন ষড়যন্ত্রের নাম এন আর সি:আসুন এ চক্রান্ত প্রতিরোধ করি’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এই স্পর্শকাতর আলোচনা সভায় এন আর সি আইন এবং সঙ্কটাপন্ন বাংলা ভাষা সংস্কৃতি বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানব অধিকার কর্মী ভারতী ঘোষ, অধ্যাপক সনৎ কুমার নস্কর, অধ্যাপক আশিস সানা, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিশির সিংহ, ড. ইমানুল হক, ড. গর্গ চট্টোপাধ্যায়, ত্রিপুরার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্যামল রায়, আন্দামানের বিশিষ্ট লেখক অশোক কুমার পান্ডে, ত্রিসপ্তকের কর্ণধার ভাষা দরদী ঋষিণ মিত্র, জাতীয় শিক্ষক সূর্যাংশু ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সমাজ সচেতক বুলবুল রায়, মনোরঞ্জন সরকার, গোপাল চক্রবর্তী ও হরিপদ বিশ্বাস।
এদিনের তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সর্বভারতীয় বাংলাভাষা মঞ্চের সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাসের উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যার পর নির্ধারিত আলোচনা সভায় উদ্বোধক পবিত্র সরকার বলেন আমাদের স্বাধীন দেশ মানে “ভূবন গ্রাম” এর মানুষ যে যেখানে খুশি থাকতে পারে, যেতে পারে। কিন্তু এন আর সি’র নামে এখন সেই ছবি উল্টো। প্রতি পদে পদে নিষেধাজ্ঞা। বাঙালির অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। এই বিপন্নপ্রায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছে আসাম থেকে।
বক্তা ড. তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন আমরা এখনো জাতপাতের ভয়ঙ্কর অজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতেন পারিনি। এন আর সি’র নামে বাংলাভাষী হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে বাংলা শিক্ষা সংস্কৃতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত। এর বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিবাদ করার সময় এসেছে। তাই সময় আমাকে টেনে নামিয়েছে পথে। আমরা এখন একটা দাবানলের মধ্যে বাস করছি। এর থেকে রেহাই পেতে আন্দোলনের দরকার।
আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন-দেশের অশুভ শক্তি ‘হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্থান’ এর জিগির তুলে বাঙালি অস্তিত্ব বিনাশের খেলায় মেতেছে দেশের শাসকগোষ্ঠীর নীরবতাকে হাতিয়ার করে। যা মোটেও কাম্য নয়। অথচ শাসকের কাজ ‘বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’ এর ঐতিহ্যকে বজায় রাখা। তিনি প্রশ্ন তোলেন – স্বাধীন ভারতবর্ষে এন আর সি’র প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? তাই বাংলা ভাষা সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।
লেখক অশোক কুমার পান্ডে তাঁর বক্তব্যে আন্দামানে বসবাসকারী বাঙালির মুখের ভাষা, লেখার ভাষা বাংলা আজ মুছে যেতে চলেছে। সেখানকার বাঙালির বাংলা ভাষা যেন বিলুপ্ত হয়ে না যায়, মুখ্যভূমির ভাষা দরদী শিক্ষিত যুব সমাজের কাছে তার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানান।
ড. গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন -বাঙালির বিপদ ১৯৪৭ এর পর থেকেই শুরু হয়েছে। এখন তার ভয়ঙ্কর রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির বিনাশ ঘটাতে বাঙালি যুব সমাজেকে এগিয়ে আসতে হবে।
সারা দেশে বাঙালির অস্তিত্ব সঙ্কটের উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমস্ত বক্তাই মিলিতভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের পক্ষেই নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment