দেশ 

৭০ বছরে ইতিহাস পাল্টে দিল মোদী সরকার ;জম্মু-কাশ্মীরের জন্য নির্ধারিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নিল কেন্দ্র ; জম্মু-কাশ্মীরকে দুভাগে ভাগ করা হল ; রাজ্যের মর্যাদা হারাচ্ছে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি তারা ক্ষমতায় এলে জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধার তুলে নেবে । কথা মতো ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সংসদে অধিবেশনেই সে কথা ঘোষণা করে দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা মোতবেক ‘বিশেষ মর্যাদা’ হারাল জম্মু কাশ্মীর। উপত্যকায় রইল না আলাদা সংবিধান, আলাদা পতাকা।  সেই সঙ্গেই বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের বহু দিনের দাবি মেটাল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব দ্বিতীয় এনডিএ সরকার।

এর পাশাপশি জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ— এই দু’টি আলাদা রাজ্যের প্রস্তাব সংসদে পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে জম্মু-কাশ্মীর যে শুধু বিশেষ মর্যাদা খোয়াল তাই নয়, রাজ্যের স্বীকৃতিও হারনোর পথে।

গতকাল পর্যন্ত যে জম্মু-কাশ্মীর ছিল ‘বিশেষ মর্যাদা’প্রাপ্ত রাজ্য, সোমবার থেকে সেটাই হয়ে গেল সাধারণ। পটভূমিটা অবশ্য তৈরি হচ্ছিল গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। অমরনাথ যাত্রী এবং পর্যটকদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ, সমান্তরাল ভাবে দফায় দফায় প্রচুর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জেরে নানা জল্পনা ভাসছিল উপত্যকায়। উত্তেজনা বাড়ে শনিবার রাতে মেহবুবা মুফতির বাড়িতে সর্বদল বৈঠকের পর। ওই বৈঠকের পরই কাশ্মীরের কয়েক জন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গৃহবন্দি করা হয় রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি-সহ অনেক নেতাকেই। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল ১৪৪ ধারা জারি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা।

সেই উত্তেজনা চরমে উঠতে শুরু করে সোমবার সকাল থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, বেলা ১১টায় রাজ্যসভায় বড় ঘোষণা করতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তখনই বোঝা যায়, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে। তার পর থেকেই গোটা দেশের নজর কেন্দ্রীভূত হয় রাজ্যসভায়।

অবশেষে রাজ্যসভায় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাষ্ট্রপতির সই করা নির্দেশনামা পড়ে শোনাতে শুরু করলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশবলে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটানো হল। প্রত্যাহার করা হল ওই ধারার অধীনেই ৩৫এ ধারাও। ফলে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা যে সব বিশেষ সুযোগ সুবিধা ভোগ করতেন, এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সে সব বাতিল হয়ে গেল।

৩৭০ ধারারই একটি অংশ হাতিয়ার করে সংসদ এড়িয়ে এমন সংস্থান করল শাসক দল, যাতে পদ্ধতিগত ত্রুটির প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকল না বিরোধীদের কাছে। কিন্তু সংসদ এড়িয়ে কী ভাবে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ? সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল না কেন?

১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলেও সেই মর্যাদা স্থায়ী ছিল না, বরং ছিল অস্থায়ী সংস্থান (‘টেম্পোরারি প্রভিশন’)। কিন্তু এই ধারারই ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইচ্ছে করলে এই ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নিতে পারেন। রাষ্ট্রপতির ওই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই কাজ হাসিল করল মোদী সরকার। অর্থাৎ নির্দেশনামায় রাষ্ট্রপতি সই করার পরের মুহূর্ত থেকেই রদ হয়ে গেল ৩৭০ ধারা। এই ধারার অধীনেই ৩৫এ ধারায় ভারতীয় ভুখণ্ডে থেকেও ভূস্বর্গের বাসিন্দারা যে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন, খারিজ হয়ে গেল সেটাও।

এর সঙ্গেই কেন্দ্রের প্রস্তাব, রাজ্যকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ— এই দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন  করা হোক। তবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে না হলেও রাজ্য ভাগের সিদ্ধান্ত সংসদে পাশ করাতে হবে সরকার পক্ষকে।

কিন্তু এই ঘোষণার পরেই সংসদে তীব্র প্রতিবাদ করে বিরোধী দলগুলি। জম্মু-কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি ছাড়াও কংগ্রেস, আরজেডি, টিএমসি, ডিএমকে, সিপিএম সাংসদরা তীব্র প্রতিবাদ করেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করে বিজেপির শরিক দল জেডিইউ। অন্য দিকে সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল বিজেডি, ওয়াইএসআরসিপি, শিব সেনা, টিআরএস, টিডিপির মতো দল। তার সঙ্গে বিরোধী শিবিরের মায়াবতীর বিএসপি এবং অরবিন্দ কেজরীবালের আপ সাংসদরাও এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন। ফলে ৩৭০-এর ধাক্কায় সংসদের সমীকরণও উল্টে-পাল্টে গিয়েছে।

সংসদের এই যুদ্ধ জারি রয়েছে বাইরেও। বহু দিন ধরেই বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারের অবস্থান ছিল, অখণ্ড ভারতে থেকে কাশ্মীরবাসী বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারে না। এ বছর লোকসভা ভোটে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারেও ছিল ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। উচ্ছ্বসিত শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি টুইট করেন, ‘‘একটা ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন হল।’’ উল্টো দিকে বিরোধী শিবিরের মেহবুবা মুফতি থেকে গুলাম নবি আজাদ কিংবা পি চিদম্বরম থেকে ডেরেক ওব্রায়েন— অধিকাংশের বক্তব্যের সুর, গণতন্ত্রকে হত্যা করল সরকার। এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। ( সৌজন্যে : ডিজিটাল আনন্দবাজার)

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment