দেশ 

রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল ইউএপিএ সংশোধনী বিল ; এবার রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই যেকোনো সন্দেহ ভাজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দিতে পারবে প্রশাসন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন সংশোধনী বিল ( ইউএপিএ)। রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়েও বড় ভোটের ব্যবধানে এই বিল পাশ হয়েছে । বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৪৭ ; বিপক্ষে ৪২ । এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হয়ে যাবে ।ফলে এর পর থেকে সন্দেহের বশে যেকোনও ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে গ্রেফতার করা যাবে।

১৯৬৭ সালের ইউএপিএ আইন অনুযায়ী এতদিন কোনও সংগঠন সন্ত্রাসী কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, সন্ত্রাসী কাজকর্মের প্রস্তুতি নিলে এবং তাদের মাধ্যমে কোনও ভাবে সন্ত্রাসবাদের প্রচার হলে, ওই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে চিহ্নিত করতে পারত কেন্দ্রীয় সরকার।  সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ডিজি-র অনুমতি নিয়ে ওই সংগঠনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

মোদী সরকার ১৯৬৭ সালের আইনটির  যে সংশোধন ঘটিয়েছে, তার আওতায় শুধুমাত্র কোনও সংগঠনই নয়, সন্দেহভাজন কোনও ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে গ্রেফতার করা যাবে। তদন্ত চলাকালীন ওই ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে এনআইএ। সে ক্ষেত্রে আর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ডিজির কাছ থেকে আগে ভাগে অনুমতি নিতে হবে না তাদের। তার পরিবর্তে এনআইএ-র ডিজি-র অনুমতি নিলেই চলবে।

এতদিন পুলিশের ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অথবা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা তার চেয়ে উচ্চপদে আসীন কোনও অফিসারই সন্ত্রাস সংযোগ নিয়ে তদন্ত করতে পারতেন। কিন্তু সংশোধিত বিলটিতে এনআইএ-র হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর বলে সংস্থার ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত কোনও কর্মীও তদন্ত করতে পারবেন।

দ্বিতীয় দফায় নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর, গত ৮ জুলাই লোকসভায় ইউএপিএ সংশোধনী বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ২৪ জুলাই বিলটি সেখানে পাশ করিয়ে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তার পর শুক্রবার রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হলে পুনর্বিবেচনা করে দেখতে  বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় বিরোধীরা। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। তার পর ভোটাভুটি শুরু হলে, বিলটির সমর্থনে ভোট দেন ১৪৭ জন সাংসদ। বিপক্ষে ভোট দেন ৪২ জন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment