দেশ 

অভিযোগ দায়ের দিন থেকেই শুরু হয় হুমকি , ইনসাফ চেয়ে দেশের প্রধান বিচারপতিরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা ; কেন ইনসাফ পেলেন না নির্যাতিতার পরিবার জানতে চান ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : উন্নাও কান্ডে নির্যাতিতার কাকীমা রবিবার পথ দুর্ঘটনায় নিহত হন । নিহতের স্বামী মহেশ সিং প্যারোলে মুক্তি পেয়ে আজ বাড়িতে আসেন । সেখানে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন ।তিনি বলেন ,ধর্ষণের অভিযোগ করতে গেলে শুরুতেই তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। প্রভাবশালী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বলা হয়, কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে তাদের  চাকরি যেতে পারে। তাই নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়া উচিত।

সমালোচনার মুখে পড়ে পরবর্তী কালে কুলদীপ সেঙ্গারকে গ্রেফতার করা হলেও, জেলের মধ্য থেকেই কুলদীপ সেঙ্গার ফোনে তাঁদের লাগাতার হুমকি দিতেন বলে দাবি মহেশ সিংহের। তাঁর কথায়, বিজেপি বিধায়ক ফোনে বলতেন, প্রাণ বাঁচতে চাইলে বয়ান পাল্টে ফেলতে হবে গোটা পরিবারকে। এ ব্যাপারে সরকার তাদের পাশে রয়েছে, তাই কিচ্ছুটি করতে পারবেন না নির্যাতিতা, এমন হুমকি দিত কুলদীপ সেঙ্গারের শাগরেদরাও।

নির্যাতিতার এক বোন জানান, ‘‘লাগাতার হুমকি পেয়ে চলেছি আমরা। বাইরে বেরোলে আমার পিছু নেওয়া হয়। কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের এক শাগরেদ নবীন সম্প্রতি কাকিমাকে হুমকি দেয় যে, আমাদের ভয়ঙ্কর ফল ভুগতে হবে। পুলিশও মিটমাট করে নিতে বলত সারা ক্ষণ।’’

নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয় ইলাহাবাদ আদালত। তার পর থেকে হুমকি আরও বেড়ে গিয়েছিল। যা নিয়ে  গত ১২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে চিঠি লিখেছিলেন নির্যাতিতা স্বয়ং। হুমকির একটি ভিডিয়ো রেকর্ডিংও রয়েছে বলে জানিয়ে তাতে তিনি লেখেন, ‘‘বাড়ি বয়ে এসে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক। মামলা না তুলে নিলে ভুয়ো মামলায় পরিবারের সকলকে জেলে পোরার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার আর্জি জানান তিনি। এর পর ১৩ জুলাই উন্নাও পুলিশকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতার মা-ও। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় সপরিবারের উন্নাও থেকে দিল্লি চলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল পরিবারে। তার মধ্যেই এই ঘটনা।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। এ দিন লোকসভায় তা নিয়ে হই হট্টগোলও হয়। সেখানে শাসকদলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস, তৃণমূল, বিএসপি এবং ডিএমকে। লোকসভার মধ্যেই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেয় তারা। পরে ওয়াকআউটও করে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃত ভাবে কুলদীপ সেঙ্গারকে আড়াল করছেন বলে অভিযোগ তোলেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘জেলে কুলদীপ সেঙ্গারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বিজেপির সাংসদ সাক্ষী মহারাজ। এতেই দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। অভিযুক্তকে শুরু থেকে আড়াল করে আসছে তারা। সুপ্রিম কোর্টের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।’

অন্য দিকে, নির্যাতিতা, তাঁর পরিবার, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি, তদন্তকারী আধিকারিক এবং এসএসপির সঙ্গে কথা বলতে ইতিমধ্যেই লখনউ পৌঁছেছে জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে কথা হলেও, চিকিৎসকদের আপত্তিতে এখনও পর্যন্ত নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা হয়নি তাদের।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment