কলকাতা 

সরিফুল গাজি ও সৌরভ গুড়ির হত্যার ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চাইছে পরিবার

শেয়ার করুন
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শ্রীরামপুর এগ্রিকালচার হাইস্কুলে একমাসের মধ্যে নবম শ্রেণীর দুই ছাত্র সরিফুল গাজি ও সৌরভ গুড়ির অস্বাভাবিক মৃত্যু যথেষ্ট উদ্বেগ জনক।  ঘটনার রেশ যেন এখনও কাটাতে পারছেননা দুই পড়ুয়ার বাবা মা। মঙ্গলবার কলকাতা প্রেসক্লাবে ছাত্র সংগঠন এসআইও (স্টুডেন্টস ইসলামিক অরগানাইজেশন)- এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে শরিফুলের মা তুহিনা বিবি দাবি করেন, তাঁদের সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে দুই পড়ুয়াকে খুন করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। তাঁর দাবি খুনেদের আড়াল করছে প্রশাসন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যদি তা না হয়, তাহলে একমাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও কেন দোষীদের গ্রেফতার করা হলনা? দোষীদের আড়াল করতেই শরিফুলে ময়না তদন্তের রিপোর্টকে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি করেন শরিফুলের মা। তিনি বলেন, তাই প্রশাসনের রাজ্য প্রশাসনের উপর থেকে তাঁদের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চাইছি।

এদিন শরিফুল ও সৌরভের মৃত্যুর ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে এসআইও’র রাজ্য সম্পাদক খালিদ আলি জানান, ভর্তি নেওয়ার শুরু থেকেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের আচরণে। কিন্তু ভর্তির পরে চার মাস না যেতেই শরিফুলের মৃত দেহ উদ্ধার হয় ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে। যে দিন (২০ এপ্রিল) শরিফুলের মৃত্যুর (আত্মহত্যা) সংবাদ তার বাড়িতে যায়, তার কয়েক ঘন্টা আগে শরিফুল নিজে তার মাকে ফোন করে বলে, “মা আমি পরীক্ষার শেষে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ি যাবো ”। এখানে প্রশ্ন থেকেই যায় তার মায়ের সঙ্গে কথোপকথনের পরে শরিফুল কেন আত্মহত্যা করতে যাবে ? শরিফুল যদি আত্মহত্যা করতো, তাহলে তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন এলো কি ভাবে ? যার থেকে এটা অনুমেয় শরিফুলের মৃত্যুর আগে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। শরিফুলল গাজির পরিবারের দাবী,
১৮ মে একই স্কুল থেকে মৃত শরিফুলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সৌরভ গুড়ির ঝুলন্ত মৃত দেহ উদ্ধার হয়। রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে যে, শরিফুল গাজির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার প্রধান সাক্ষী ছিল এই সৌরভ গুড়ি। শরিফুল কে গুরুতর অবস্থায় যখন সৌরভ দেখতে পায়, তখন শরিফুল কে বাঁচানোর জন্য হোস্টেল সুপার কলা বরণ বাবুর শরণাপন্ন হয়। কিন্তু তিনি সৌরভের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নির্দয়তার পরিচয় দেন এবং তিনি ঘটনা জানার পরেই হোস্টেল ছেড়ে পালিয়ে যান। হোস্টেল সুপারের এহেন আচারনের পর সৌরভ হোস্টেলের বাইরে দোকানদার ও আশেপাশের লোকেদের কাছে প্রায় আধঘন্টা ধরে কাতর বিনতি করে। সৌরভের দাবী তখনও শরিফুল জীবিত ছিল, যেহেতু শরিফুল মুসলিম তাই কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।
শরিফুলের মৃত্যুর একমাস না যেতেই তার প্রধান সাক্ষী সৌরভ গুড়ির মৃত দেহ উদ্ধার হয়। সৌরভের যেদিন মৃত দেহ উদ্ধার হয় তার ঠিক দুদিন পরেই সৌরভের কোর্টে সাক্ষী দেওয়ার কথা ছিল। এসআইও’র রাজ্য সম্পাদক ইমাম হোসেন প্রশ্ন তোলেন, শরিফুল গাজির মৃত্যু রহস্যকে ধামাচাপা দিতেই সৌরভকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। কারন সৌরভের মৃত্যুও কম রহস্যজনক নয়। তিনি বলেন, সৌরভের মৃত দেহ স্কুলের সাময়িকভাবে বন্ধ ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার হয়। সৌরভ আবাসিক ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও বন্ধ ছাত্রাবাসে গেলো কি ভাবে ? এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইমাম হোসেনেরর দাবি, যখন সৌরভকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন তার পা মেঝেতে লেগে ছিল এবং সিলিং ফ্যানের একটি মাত্র ব্লেডের উপর দেহটি ঝোলানো ছিলো। ঘটনা পরম্পরায় যে তথ্য উঠে আসছে তা থেকে এটা পরিষ্কার যে, শরিফুল এবং সৌরভ আত্মহত্যা করেনি।’ রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি বলেন, “শরিফুলের পরিবার প্রথম থেকেই দাবী করে আসছে, ‘ শরিফুল কে হত্যা করা হয়েছে’ এবং সৌরভের পরিবারও বলছে, ‘ সাক্ষী লোপাটের জন্য সৌরভ কে মেরে ফেলা হয়েছে। অথচ, দুটি পরিবারের অভিযোগ থাকার পরেও এখনও কেনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলো না ? এবং এক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে আমরা দাবী করছি যে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের দাবী শরিফুল ও সৌরভের হত্যার অভিযোগ কে সামনে রেখে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক।

 


শেয়ার করুন
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment