কলকাতা 

মার খেয়েও অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্রকে মারমুখী পড়ুয়াদের রোষ থেকে বাঁচিয়ে মানবিকতার নজীর সৃষ্টি করেছেন যাদবপুরের অধ্যাপক আবদুল কাফি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : একদিন আগেই কোন্নগরের হীরালাল পাল কলেজের অধ্যাপক নিগ্রহের কারণে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন । এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শিক্ষক নিগ্রহের খবরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে । এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবদুল কাফি এক প্রাক্তন ছাত্রের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে ।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হল । ছাত্রের হাতে মার খাওয়ার পরও তিনি ওই ছাত্রের প্রতি যে ব্যবহার করেছেন তা নজীরবিহীন ।মার খেয়েও ওই শিক্ষক দু’দফায় অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্রকে ক্ষিপ্ত পড়ুয়াদের মারধর থেকে বাঁচিয়েছেন।

জানা গেছে ,বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবদুল কাফি শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলেন। অভিযোগ, রাজেশ সাঁতরা নামের এক প্রাক্তন ছাত্র তখনই ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর উপরে। মারতে শুরু করেন তাঁকে। অতর্কিত আক্রমণে কাফি চোখের কাছে আঘাত পান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, রাজেশ এ দিন কাফিকে মারধর করার পরে অন্য কিছু পড়ুয়া উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কাফিই তাঁদের শান্ত হতে বলেন এবং অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্রকে মারমুখী পড়ুয়াদের রোষ থেকে বাঁচান। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা যখন রাজেশকে অরবিন্দ ভবনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কিছু পড়ুয়া আবার উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তকে মারধর করতে যান। নিগৃহীত শিক্ষক তখন হাতজোড় করে ছাত্রদের বলেন, ‘‘তোমরা যাও। ওর গায়ে যেন হাত না-পড়ে। এটা তোমরা একটু দেখো, অনুরোধ করলাম।’’ পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, মার খেয়েও ছাত্রছাত্রীদের শান্ত হওয়ার, বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন কাফি স্যর।

সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিষয়টি যাদবপুর থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ রাজেশকে গ্রেফতার করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‘সারা রাজ্যেই শিক্ষক-নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে। যাদবপুরেও ঘটল। আমরা চাই, দোষীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment