কলকাতা 

স্যাটে ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের কর্মীদের ‘ ঐতিহাসিক জয় ‘ ; রায় মেনে আদৌ ডিএ দিতে রাজি হবে সরকার ? না দিলে আন্দোলনের পথে যাবে হুঁশিয়ারি কর্মী সংগঠনগুলির

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টে ডিএ রাজ্য সরকারের কর্মীদের অধিকার এই দাবি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আজ শুক্রবার রাজ্য প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল বা স্যাট এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে । স্যাটের বিচারপতিরা রায়ে বলেছেন , কেন্দ্র সরকার বছরে যে দুবার ডিএ দিয়ে থাকে তা রাজ্য সরকারকে দিতে হবে । গত দশ বছর ধরে ডিএ কেন্দ্রীয় হারে না দেওয়ার জন্য যে বকেয়া রয়েছে তা হিসেব করে কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে ।

এই রায়ের পর থেকেই কার্যত উল্লাসে ফেটে পড়েছেন কর্মীরা। মামলাকারী কংগ্রেস সমর্থিত কর্মী সংগঠন কনফেডারেশন তো বটেই, অন্য সংগঠনগুলির মধ্যেও কার্যত খুশির হাওয়া। রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সব কর্মী সংগঠনই।

কনফেডারেশনের তরফে সুবীর সাহা বলেন, ‘‘আমরা এই রায়ে অত্যন্ত খুশি। যে ক’টা দাবি স্যাটের কাছে পেশ করেছিলাম, সব দাবিই স্যাট মেনে নিয়েছে। এই রায়কে স্বাগত তো অবশ্যই জানাচ্ছি এবং মনে করছি কর্মীদের সঙ্গে সরকার যে বঞ্চনা বছরের পর বছর চালিয়ে আসছিল, তার বিরুদ্ধে তাঁরা আজ এক বিরাট জয় পেলেন।’’

বিজেপি সমর্থিত সংগঠন কর্মচারী পরিষদের রাজ্য কমিটির আহ্বায়ক দেবাশিস শীল বলেন, ‘‘স্যাট আজ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। কর্মীদের আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয় হয়েছে।’’

তৃণমূলের সংগঠন ফেডারেশন এবং সিপিএমের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটিও স্বাগত জানিয়েছে রায়কে। তবে কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয়শঙ্কর সিংহ তার সঙ্গে এ-ও বলেছেন যে, কর্মীদের অধিকার যতই স্বীকৃতি পেয়ে থাক স্যাটের রায়ে, একে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ফের আন্দোলনেই নামতে হবে।

এদিকে আইএনটিইউসি-র সভাপতি কামরুজ্জামান কামার এক বিবৃতিতে বলেছেন , এই জয় ঐতিহাসিক জয় । কর্মীদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করল । আর জয়ের জন্য সমস্ত রাজ্য সরকারের কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি । একই সঙ্গে কর্মী সংগঠনের আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কামরুজ্জামান কামার ।

কিন্ত স্যাটের এই ‘ঐতিহাসিক’ রায়ের  পরেও স্বস্তিতে নেই সরকারি কর্মচারী মহল। অধিকাংশ সংগঠন এবং কর্মীদের আশঙ্কা, এত সহজে রাজ্য সরকার স্যাটের রায় মেনে নেবে না। হাইকোর্টে এবং স্যাটে শুনানি চলাকালীন যে দৃঢ়তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবির বিরোধিতা করেছে রাজ্য সরকার, সে কথা কর্মীদের অজানা নয়। তার উপর শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানান, বেতন কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার পরে বেতন সংস্কারও ‘সাধ্যমতো’ করবেন। তাই রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে। যে সরকার বেতন সংস্কারের বিষয়েই স্পষ্ট আশ্বাস দিতে রাজি নয়, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া এবং ১০ বছরের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ সেই সরকার একবাক্যে মেনে নেবে কি? প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে কর্মী মহলে।

স্যাটের রায়ের ফলে যে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা রাজ্য সরকারের ঘাড়ে এসে পড়ল, তা বহন করতে সরকার আদৌ প্রস্তুত কি না, সে বিষয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে কর্মী সংগঠনগুলির আশঙ্কা, রাজ্য সরকার ফের হাইকোর্টে যেতে পারে।

অধিকাংশ সংগঠনেরই মত, আর বিরোধিতা না করে এ বার সরকারের উচিত কর্মীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া। না হলে সরকারকে আরও কর্মী-বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। খোদ শাসক দলের সংগঠন ফেডারেশনও চাইছে, এই রায়কে যেন চ্যালেঞ্জ না করা হয়।

ফেডারেশনের মেন্টর গ্রুপের আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘স্যাটের এই রায়কে স্বাগত না জানানোর কোনও কারণ নেই। আশা করছি, রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার ডিএ মিটিয়ে দেবে। সরকারের কাছে অনুরোধ করব, কর্মীদের এই দাবি এ বার মেনে নেওয়া হোক। সরকার যাতে এর বিরোধিতার পথে না হাঁটে, আমরা সেটাই চাইব।’’

কো-অর্ডিনেশনের নেতা বিজয়শঙ্করের কথায়, ‘‘আমাদের অধিকারটা স্বীকৃত হল। আমরা যা চাইছি, তা যে অন্যায্য নয়, সেটা স্যাটও বলে দিল। তার জন্য স্যাটকে ধন্যবাদ। কিন্তু আমরা জানি যে, এই ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমাদের আবার পথে নামতে হবে। কারণ স্যাট বা আদালত নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেটার রূপায়ণ ঘটিয়ে দিতে পারে না। পথে নেমে আন্দোলন না হওয়া পর্যন্ত এই সরকার কর্মীদের দাবি মেনে নেবে না, আমরা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতও আছি।’’

তবে একথা ঠিক স্যাটের এই রায়ের পরেও রাজ্য সরকার ডিএ দিতে বিলম্ব করলে তাতে সরকারি কর্মীরা বড় ধরনের আন্দোলনের পথে যেতে পারে । আর সেদিকে লক্ষ্য রেখে তৃণমূল প্রভাবিত সংগঠনগুলিও স্যাটের রায় সরকারের মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment