কলকাতা 

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড বেড়ে হল ৩২০০ , ৩৬০০ করার ভাবনা পার্থের , অর্থ দফতরের অনুমতি পেলে কার্যকর , এতে খুশি নন অনশনকারী শিক্ষকরা , আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত উস্তির

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের অনশন কর্মসূচির কাছে খানিকটা হলেও রাজ্য সরকার হার স্বীকার করেনিলেন । আজ নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের ডাকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । সেই সভায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেন ,প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে বাড়িয়ে অন্তত ৩২০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে তা যাতে ৩৬০০ টাকা করা যায়, সে প্রস্তাবও তিনি অর্থ দফতরে পাঠিয়েছেন বলে পার্থবাবু জানান।

আর শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে শিক্ষক সংগঠনগুলির অভিযোগ। এখন প্রাথমিক শিক্ষকরা যে পে ব্যান্ডে রয়েছেন, তাতে তাঁদের পাঁচ রকমের গ্রেড পে রয়েছে—২১০০ টাকা, ২৩০০ টাকা,২৬০০ টাকা, ২৯০০ টাকা এবং ৩১০০ টাকা। পে ব্যান্ড-টু থেকে যদি এ বার প্রাথমিক শিক্ষকদের পে ব্যান্ড-থ্রি-তে নিয়ে যাওয়া হয়, তা হলেও গ্রেড পে অন্তত চার রকমের হওয়ার কথা— ৩২০০ টাকা, ৩৬০০ টাকা, ৩৯০০ টাকা, ৪১০০ টাকা। তাই গ্রেড পে অন্তত ৩২০০ টাকা করে দেওয়া এবং সম্ভব হলে তা ৩৬০০ টাকায় কিভাবে নিয়ে যাবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না শিক্ষক সংগঠনের নেতারা।

উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের  কোর কমিটি সদস্য অনুপ সাহুর এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আমাদের যদি পে ব্যান্ড-থ্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়, তা হলে তো এমনিতেই কারও গ্রেড পে ৩২০০ টাকা, কারও ৩৬০০ টাকা, কারও আবার তার চেয়েও বেশি হবে। তা হলে অন্তত ৩২০০ টাকা, সম্ভব হলে ৩৬০০ টাকা করার অর্থ কী? শিক্ষামন্ত্রী কি চার রকম গ্রেড পে-র নিয়ম ভেঙে সবাইকে একই গ্রেড পে দিতে চাইছেন নাকি? আমরা বুঝতে পারছি না।’’

এদিকে  বিকাশ ভবনে কাছে গত ১৩ দিন ধরে অনশন শিক্ষক সংগঠনের কোনো নেতৃবৃন্দকে এই সভায় আমন্ত্রন করা হয়নি । বিষয়টি স্পষ্ট যে মূলত উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আন্দোলনের চাপেই সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কিন্ত এই বেতন সিদ্ধান্ত কোনো সরকারি ফোরাম থেকে হলে ভাল হত বলে মনে করছেন অনশনকারী শিক্ষকরা । তারা দাবি করেছেন , বেতন ঘোষণার মধ্যে কোনা স্পষ্টতা নেই । সুতরাং আন্দোলন তুলে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতাও নেই । অনশন কর্মসূচি চলবে বলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দিয়েছেন ।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য এ সব অভিযোগ এবং হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘‘গ্রেড পে বাড়িয়ে ৩২০০ টাকা করতে বলেছি। যাতে ৩৬০০ টাকা করা যায়, সে বিষয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে। আর কত বাড়াব? দ্বিগুণ করতে হবে নাকি!’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment