দেশ 

কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের প্রাপ্য সম্মান পাননি বলেই দল ছেড়েছেন দাবি মধ্যপ্রদেশের দুই বিজেপি বিধায়কের , আরও চার বিজেপি বিধায়ক যোগ দিতে চলেছেন কংগ্রেসে !

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিজেপি হুমকি দিয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার পতন ঘটাবে । এই হুমকির প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ । তিনি নিরবে নেমেছিলেন কমল অভিযানে । কংগ্রেস থেকে চলে যাওয়া দুই বিজেপি বিধায়ককে টার্গেট করে দলে ফিরিয়ে আনলেন তিনি । বিজেপিকে কিছু না বলে কমলনাথ বুঝিয়ে দিলেন তার সরকার ভাঙার চেষ্টা করলে বিজেপিকে তিনি ভেঙে দেবেন । দলে ফিরে আসা দুই বিজেপি বিধায়ক বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের বলেছেন , তাঁরা তাদের নিজেদের ঘরে ফিরে এসেছেন মাত্র । এতে আশ্চর্যের কিছু নেই ।ওই দুই বিধায়ক নারায়ণ ত্রিপাঠি ও শরদ কল এক সময় কংগ্রেসে ছিলেন। কেন এই ‘ঘর ওয়াপসি’? তা জানাতে দ্বিধা করেননি ওই দুই বিজেপি বিধায়ক। বলেছেন, ‘‘বিজেপিতে গিয়ে আমাদের যে সম্মান প্রাপ্য ছিল, তা আমাদের দেওয়া হচ্ছিল না।’’

কমল নাথ সরকারের আনা সেই অ্যাডভোকেট প্রটেকশান বিলটিকেই শরদ ও নারায়ণ সমর্থন করেছেন, যে বিলটির খসড়া তৈরি হয়েছিল ১৫ বছর আগে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের নেতৃত্বে তিন-তিনটি বিজেপি সরকারের আমলে সেই বিলটিকে আর বিধানসভায় আনা হয়নি। গতকাল বিলটি নিয়ে ভোটাভুটিতে অংশ নেননি বিজেপি বিধায়করা। বিলটির পক্ষে ১২২টি ভোট পড়ায় তা পাশ হয়ে যায় বিধানসভায়।

সাতনার মাইহার আসন থেকে চার বার জয়ী বিধায়ক নারায়ণ ত্রিপাঠি এক সময় ছিলেন সমাজবাদী পার্টিতে (সপা)। সপা প্রার্থী হিসাবেই তিনি প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন মাইহার কেন্দ্র থেকে জিতে। ২০০৩-এ। তার পরের বছরেই সপার প্রদেশ সভাপতি নারায়ণ প্রার্থী হয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে। কিন্তু হেরে যান। ২০০৮-এর বিধানসভা ভোটে সপার টিকিটে লড়ে বিজেপির কাছে হেরে যান নারায়ণ। কিন্তু তার পাঁচ বছর পরেই ২০১৩-র বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে মাইহার থেকেই নির্বাচিত হন নারায়ণ। ২০১৫-য় মধ্যপ্রদেশে বিজেপি যখন ক্ষমতায়, তখন বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে নারায়ণ যোগ দেন বিজেপিতে। ২০১৬-র উপনির্বাচনে মাইহার আসন থেকেই পুননির্বাচিত হন তিনি, বিজেপি প্রার্থী হিসাবে। গত ডিসেম্বরের বিধানসভা ভোটেও মাইহার থেকে পুননির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে সাতনা কেন্দ্রে তিন বারের জয়ী বিজেপি প্রার্থী গণেশ সিংহকে হারাতে চেষ্টার কসুর করেননি নারায়ণ। যদিও গণেশ ভাল ভাবেই জিতে যান সাতনায়। বিধানসভা ভোটে বিজেপি ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর থেকেই প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগসাজশ শুরু হয়ে যায় নারায়ণের।

শহদল জেলার বেওহারি বিধানসভা আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জিতেছিলেন শরদ কল। কংগ্রেস নেতা জুগুল কলের পুত্র শরদ এক সময় ছিলেন কংগ্রেসেই। কংগ্রেসের টিকিটে তিনি শহদল জেলা পঞ্চায়েত ভোটেও জয়ী হয়েছিলেন। গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দু’মাস আগে, অক্টোবরে শরদ কংগ্রেস ছেড়ে যান বিজেপিতে। বিজেপির টিকিটে লড়েই বিধায়ক হন।

মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ সরকারের খনি মন্ত্রী নির্দল বিধায়ক প্রদীপ জয়সোয়াল জানিয়েছেন, অন্তত আরও চার জন বিজেপি বিধায়ক কংগ্রেসের যোগ দিতে চলেছেন।

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment