দেশ 

জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে মুসলিম-দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর গণপিটুনি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখলেন দেশের ৪৯ জন প্রথম সারির বুদ্ধিজীবী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলে  মুসলিম-দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর গণপিটুনি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। গণপিটুনির সঙ্গে যুক্ত থাকলে  জামিন অযোগ্য  ধারায় মামলা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান করতে হবে। এই দাবি জানিয়ে দেশের প্রথম সারির ৪৯জন বিদ্বজ্জন চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে । এই চিঠিতে  আদুর গোপালকৃষ্ণন, মণিরত্নম, অনুরাগ কাশ্যপ, অপর্না সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ৪৯ জন সেলিব্রিটি তথা বিশিষ্ট জন সই করছেন।

চিঠিতে সই করেছেন চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়ক, ফ্যাশান ডিজাইনারের মতো বিভিন্ন পেশার ৪৯ জন বিদ্বজ্জন। নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় দেশবাসী হিসেবে উল্লেখ করে গণপিটুনি ও ধর্মের নামে যে উন্মাদনা চলছে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ  করেছেন। বিশেষ করে দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর যে অত্যাচার, গণপিটুনি-মারধর চলছে তার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই দূষেছেন এই বিশিষ্টজনরা।

চিঠির শুরুতেই ভারত যে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ এবং এখানে যে জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সমানাধিকার, তার উল্লেখ করে বিদ্বজ্জনদের বক্তব্য, সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার যে বার বার নানা ঘটনায় লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁরা বলেছেন, ২০১৬ সালে দলিতদের উপর ৮৪০টি অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। অথচ দোষীদের বিচার হয়েছে এমন নজির প্রায় নেই। এ ছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা এবং রিপোর্ট উল্লেখ করে গণপিটুনি ও অন্যান্য অত্যাচারের ঘটনার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।

সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘সংসদে গণপিটুনির মতো ঘটনার নিন্দা করেছেন আপনি। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ় ভাবে মনে করি, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং দ্রুত ও নিশ্চিত ভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়। খুনের ক্ষেত্রে যদি প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকে, তাহলে গণপিটুনির ক্ষেত্রে কেন নয়, যেটা বরং আরও ঘৃণ্য? কোনও দেশেই কোনও নাগরিক ভয়-ভীতির মধ্যে থাকুক এটা কাম্য নয়।’’

এ রাজ্যের রাজনীতিতে শাসক তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি নিয়ে কম বিবাদ হয়নি। কিন্তু সেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরেও হিংসাত্মক ঘঠনার নজির রয়েছে বহু। ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় মারধর, গণপিটুনির মতো ঘটনা আকছার ঘটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। হাতে গরম উদাহরণ রয়েছে কিছু দিন আগেই বিহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবককে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় গণপিটুনির জেরে মৃত্যুর ঘটনা। এই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্বজ্জনরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘জয় শ্রীরাম এখন এক ‘যুদ্ধের হুঙ্কার’। এই স্লোগানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আতঙ্কের, এই উন্মাদনা, এই বিশৃঙ্খলা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটা তো মধ্যযুগ নয়। …রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে ভর করেই দ্বিতীয় বার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি তথা এনডিএ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সরকার বা শাসক দলের বিরুদ্ধ কোনও মতামত প্রকাশ করলেই দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও মনে করেন ওই পর্যবেক্ষকরা। এই প্রবণতার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন বিদ্বজ্জনরা।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment