দেশ 

লোকসভায় পাশ হয়ে গেল সংশোধিত ইউএপিএ আইন ; এবার থেকে শুধু গোষ্ঠী বা সংগঠন নয় , ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে প্রশাসন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বুধবার লোকসভায় পাশ হল ‘বেআইনি কার্যকলাপ দমন আইন ২০১৯’  বা ইউএপিএ সংশোধনী বিল। এই  সংশোধিত বিল অনুযায়ী শুধুমাত্র কোনও গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকেই নয়, কোনও ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে কেন্দ্র।

সংশোধিত বিল পাশ হলে কোনও এনআইএ আধিকারিক যদি কোনও ঘটনার তদন্ত করে, ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে না।

সংসদের নিম্ন কক্ষে আনলফুল অ্যাক্টিভিটি প্রিভেনশন অ্যাক্ট পেশ করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনের অপব্যবহার রুখতেই এই সংশোধন আনা হচ্ছে। বিরোধী কংগ্রেস অবশ্য লোকসভা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে।

বিরোধীদের দাবি ছিল প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হোক।

অন্যান্য দেশের তুলনা টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, চিন, ইজরায়েল, রাষ্ট্রপুঞ্জ ইওরোপিয়ান ইউনিয়ন সব জায়গাতেই এই আইন রয়েছে।

গত সপ্তাহে সংসদে অমিত শাহ বলেন, ইউপিএ সরকার ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য পোটা আইন প্রত্যাহার না করলে ২৬/১১-এর মুম্বই হামলা হত না। কংগ্রেস এবং ডিএমকে সহ অন্যান্য বিরোধী দল ইউএপি সংশোধন বিলের বিরোধীতা করে বলে এই আইন কোনও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দিতে পারে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।

সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা মনিশ তিওয়ারি বলেন, “কিসের ভিত্তিতে এই বিল পাশ করা হচ্ছে? ভারতে এমন ক’টা জঙ্গি হামলা হয়েছে, যার পেছনে কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর হাত নেই? এই বিল পাশ হলে অপব্যবহার হতে বাধ্য। ভারতকে পুলিশের রাজ্য বানিয়ে তুলবেন না”।

প্রসঙ্গত, আনলফুল অ্যাক্টিভিটি প্রিভেনশন অ্যাক্ট কার্যকর হয়েছিল ১৯৭৬ সাল থেকে।

ইউপিএ-আইনের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলার সময় তৃণমূল সংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “যখনই আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা, এবং নৈতিকতার ইস্যুতে আমরা বিরোধিতা করি তখনই আমাদের দেশদ্রোহী বলা হবে কেন? সরকারের অপপ্রচার বাহিনী এবং ‘ট্রোল আর্মি’ ‘ওভার টাইম’ কাজ করছে আমাদের দেশদ্রোহী প্রমাণ করার জন্য। কেন এমন হবে?”


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment