কলকাতা 

খিদিরপুরের শতাব্দী প্রাচীন এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সহ-শিক্ষকদের কয়েক জনের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজের অভিযোগ ভূয়ো চিঠি ঘিরে চাঞ্চল্য , তদন্তে পুলিশ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা এক নামী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক জন শিক্ষক নাকি আইএনআইয়ের চর হিসাবে কাজ করছে । আবার কেউ ফোর্ট উইলিয়ামের তথ্য পাচার করেন প্রতিবেশি দেশে । আবার কোনো শিক্ষক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের ছক কষছেন । এসব নানা অভিযোগ ভরা উড়ে চিঠি পেয়ে কলকাতা পুলিশ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সহ এনআইএ-র মত প্রতিষ্ঠানের ঘুম ছুটেছে ।

এ সব চিঠি নিয়েই কার্যত বিড়ম্বনায় পড়েছেন খিদিরপুরের শতাব্দী প্রাচীন স্কুলের ১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শুধু তাই নয়, ‘পত্র বোমার’ জেরে তাঁদের কখনও পুলিশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কখনও বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার।

কে বা কারা এই চিঠি পাঠাচ্ছে, তা অবশ্য জানা যায়নি। কিন্তু এই উড়ো চিঠির জন্যে তাঁদের সামাজিক পরিচিতি নষ্ট হচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন  ওই স্কুলের ইংরাজি বিভাগের শিক্ষক ঋতুপর্ণ বসু। কলকাতা প্রকাশিত ডিজিটাল আনন্দবাজারে এ নিয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে । ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ঋতুপর্ণ বসু মঙ্গলবার ডিজিটাল আনন্দবাজারকে বলেছেন, “স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে শুরু করে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি, সিআইডি, কলকাতা পুলিশ, এমনকি  রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি স্কুলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কিত। কে বা কারা এই চিঠি দিচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হচ্ছে না।”

ঋতুপর্ণবাবু জানান, ওই স্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তিনি নাকি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই)-র হয়ে কাজ করেন। আবার এক এনসিসি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি ফোর্ট উলিয়ামের ভিতরের সব তথ্য প্রতিবেশী দেশে পাচার করছেন। এমনকি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীরূপগোপাল গোস্বামীর বিরুদ্ধেও জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘এই ঘটনার পিছনে পরিচিত কারও হাত থাকতে পারে। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে।’’

স্কুল সূত্রে খবর, শুধু জঙ্গি কার্যকলাপেই নয়, কয়েক জন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মিড ডে মিলে দুর্নীতি এবং তোলাবাজিরও অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যেই এর প্রতিকার চেয়ে ওয়াটগঞ্জ থানায় গিয়েছেন ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ডিসি বন্দর ওয়াকার রাজা বলেন, ‘‘এই ঘটনায় কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, স্কুল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment