কলকাতা 

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন কাঠামো তৈরি না হলে নবান্ন ঘেরাও করার চিন্তা-ভাবনা করছে বিরোধী দলের সরকারি কর্মচারি সংগঠন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকরী খুব শীঘ্রই হবে এমন একটা ধারনা তৈরি হয়েছিল কয়েকদিন ধরেই । জুলাই মাসেই বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ে যাবে । কেন্দ্রীয় হারে বাড়বে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন । কিন্ত গতকাল ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যা বললেন তা নিয়ে সোমবার থেকেই আবার সরকারি কর্মীরা আন্দোলনের পথে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে ।

রবিবার ধর্মতলায় তৃণমূলের সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হঠাৎ দেখছি কাজ নেইকর্ম নেই, বসে পড়ছে রাস্তায়। সবাইকে টাকা দাও আর কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মাইনে দাও।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমাবেশের কয়েক দিন আগে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি সংগঠন সল্টলেকে অবস্থান বিক্ষোভ অনশন শুরু করেছে। বেতন কাঠামো সংস্কারের দাবিতেই তাঁদের এই আন্দোলন। মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় যে তাঁরাই ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরের সংশয় কমই ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মাইনে চান, তাঁরা কেন্দ্রে চলে যান, দিল্লির চাকরি করুন। আমার কোনও আপত্তি নেই, আমি খুশি হব।’’

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের কর্মী সংগঠনগুলি তাদের ক্ষোভ উগরে দেন । প্রশ্ন উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষকরা আগে মাধ্যমিক যোগ্যতায় চাকরি করতেন । ফলে তাদের বেতন কম ছিল । কিন্ত বিগত কয়েক বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যুনতম যোগ্যতার মান উচ্চ-মাধ্যমিক করা হয়েছে । সুতরাং শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বেতন বাড়াতে হবে । আর এই প্রক্রিয়া দেশের সব রাজ্য অনুসরণ ব্যতিক্রম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ । তাই শিক্ষকদের বেতন দাবি অবশ্যই যুক্তিযুক্ত বলে বিরোধী দলের কর্মী সংগঠনগুলি মনে করছে । বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে কতটা আগ্রহী মমতা সরকার তা গতকালের ভাষণে ধরা পড়েছে । মুখ্যমন্ত্রীর ওই ভাষণে বলেছেন ,বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ুক, সেই সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারসাধ্যমতোকরবে। এইসাধ্যমতোশব্দের অর্থ কী? প্রশ্ন কর্মীদের।

কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের কথায়, ‘‘এত দিন পরে বেতন কমিশন নিয়ে সর্বসমক্ষে কথা বলতে মুখ্যমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের আন্দোলনের চাপেই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এটা আমাদের নৈতিক জয়। কিন্তু কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সাধ্যমতো করব কথার মানে কী? এই কথাটাই তো ফের সংশয় তৈরি করে দিচ্ছে।’’

নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে বেতন কমিশন যা সুপারিশ করবে, সরকার সেই সুপারিশ কার্যকর করবেএটাই নিয়ম। বলছেন কর্মী সংগঠনগুলির নেতারা।

কনফেডারেশনের রাজ্য স্তরের নেতা সুবীর সাহার কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে করেছেন, তাতে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ফের ধন্দে পড়ে গিয়েছেন। বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা পড়লে সাধ্যমতো বেতন বৃদ্ধি করা হবে কথার কী অর্থ আমরা বুঝতে পারছি না। সাধ্যমতো বা নিজের খেয়ালখুশি মতোই যদি বেতন বৃদ্ধি করেন, তা হলে এই বেতন কমিশন গঠন করার কী দরকার ছিল? কমিশনের নামে এত বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি আটকে রাখা হল। এখন বলছেন সাধ্যমতো দেব!’’

কর্মচারী পরিষদের দেবাশিস শীলের কথায়, ‘‘২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশের সব রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে বেতন সংস্কারের নীতি রূপায়ণ করে দিয়েছে। শুধু এই রাজ্যে হচ্ছে না।’’ দেবাশিসের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে ভুল বোঝাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় হারে বেতন সংস্কার মানে কিন্তু কিন্তু সরকারের সমান বেতন নয়। এর মানে হল, কেন্দ্রীয় সরকার বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে নিয়ম অনুসরণ করে, রাজ্য সরকারগুলিও সেই নিয়মই অনুসরণ করবে। মুখ্যমন্ত্রী সব জেনেও ইচ্ছাকৃত মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় হারে বেতন বৃদ্ধির প্রশ্নে অন্য কোনও রাজ্যের আপত্তি নেই। শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি।’’

বিরোধী পক্ষের ছাতার তলায় থাকা কর্মী সংগঠনগুলি যখন তীব্র আক্রমণ করছে সরকারকে, তখন শাসক দলের কর্মী সংগঠন চুপ। ফেডারেশনের মেন্টর গ্রুপের আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘কোনও মন্তব্য করব না বলাই হল সবচেয়ে ভাল মন্তব্য।’’

সিপিএমের কর্মী সংগঠন কোঅর্ডিনেশন কমিটির শীর্ষ নেতা বিজয়শঙ্কর সিংহের প্রতিক্রিয়া অবশ্য সরকারের জন্য খুব একটা অস্বস্তিকর নয়। মুখ্যমন্ত্রীর রবিবারের মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজয়শঙ্কর বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে বলেছেন, সেটা আমাদের সম্পর্কে নয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের সম্পর্কে। তাই বিষয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেওয়া ঠিক নয়।’’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘বেতন কমিশন তো মুখ্যমন্ত্রীই গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় হারে বেতন বাড়াবেন না মনে করলে তো বেতন কমিশনই গঠন করতেন না।’’

কর্মচারী পরিষদ এবং কনফেডারেশন জানিয়েছে, প্রয়োজনে আরও বড় আন্দোলনে নামার জন্য তৈরি থাকবেন সরকারি কর্মীরা। বেতন কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে জমা না পড়লে এবং সেই সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় হারে বেতন সংস্কার না হলে নবান্ন ঘেরাও হবে বলে দেবাশিস শীল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

  সৌজন্যে : ডিজিটাল আনন্দবাজার


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment