কলকাতা 

বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত সরকারি প্যানেলে থাকা আইনজীবীদের ; দেশজুড়ে শোরগোল

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাম শাসনের শেষের কয়েক বছরে যে পরিস্থিতি রাজ্যের হয়েছিল তা এখন দেখা যাচ্ছে । বামেরাও বিচারপতিদের নানা পর্যবেক্ষণকে ভাল চোখে দেখতেন না । আর বর্তমানে বনগাঁ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নানা মন্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে তাঁর এজলাস বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি প্যানেলে থাকা আইনজীবীরা ।

সোমবার এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি টিবি নায়ার রাধাকৃষ্ণণকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। তাতে বলা হয়েছে, মামলার সওয়াল-জবাবে অংশ নেবেন না তাঁরা। এর পরই বনগাঁ, হালিশহর, গঙ্গারামপুর-সহ বিভিন্ন পুরসভা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এ দিন দুপুর তিনটে নাগাদ গঙ্গারামপুর পুরসভার অনাস্থা ভোট সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল । মঙ্গলবার সকাল ১১টার সময় অনাস্থা নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। তারই প্রতিবাদ জানিয়ে গঙ্গারামপুর পুরসভার কয়েক জন কাউন্সিলরের পক্ষে তাঁদের আইনজীবী হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁদের দাবি, ভাইস চেয়ারম্যান এই বৈঠক ডাকতে পারেন না। বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলারই শুনানি রয়েছে। সরকারি আইনজীবীরা তাঁর এজলাস বয়কট করায় ওই মামলার শুনানি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

শুধু গঙ্গারামপুর পুরসভার অনাস্থাই নয়, বনগাঁ পুরসভার মামলাও চলছে বিচারপিতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে। গত ১৯ জুলাই বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা মামলাটিও তাঁর এজলাসে ওঠে। বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে তীব্র ভৎর্সনা করে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠতা সঙ্গে নেই, তবুও চেয়ার আঁকড়ে আছেন? আপনি এত নির্লজ্জ কেন?” এ দিন বনগাঁ মামলারও শুনানি রয়েছে। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসেই বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা সংক্রান্ত মামলা শুনানিও চলছিল। এ রকম অনেক মামলাতেই তাঁর পর্যবেক্ষণ নিয়ে পুরসভা এবং সরকারি পদে থাকা সাংবিধানিক পদাধিকারীরা অস্বস্তিতে পড়েন। এর প্রেক্ষিতেই সরকারি  আইনজীবীদের এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে আইনজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন।

যদিও সরকারি প্যানেলে থাকা আইনজীবীরা কেন এ দিন সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের ১১ নম্বর এজলাস বয়কট করলেন, প্রধান বিচরপতিকে দেওয়া চিঠিতে তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও আইনজীবী মহলের একটা অংশের মতে, বিচাপতি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে সওয়াল-জবাবে আইজীবীরা অংশগ্রহণ না করলেও তিনি মামলা শুনতে পারেন। এবং রায় দানও করতে পারেন। তবে, বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাস বয়কটকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাইকোর্ট চত্বরে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment