কলকাতা 

UUPTWA-র অনশন মঞ্চে মুকুল রায় ; শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি জানালেন , কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিলেন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : তৃণমূল সরকার সংকটে পড়লে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন । ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা সরকার যখনই কোনো আন্দোলনের সম্মুখীন হত তখনই তার সমাধানে এগিয়ে আসতেন মুকুল রায় । তিনি তখন নতুন সরকারের দ্বিতীয় ক্ষমতাসীন ব্যক্তি । কিন্ত সেকাল অতিবাহিত হয়ে গেছে । এখন তিনি আর তৃণমূলে নেই । দল থেকে চলে যাওয়াটা কতটা ক্ষতির কারণ হয়েছে তা একমাত্র তৃণমূল নেত্রী নিজেই উপলদ্ধি করতে পারছেন । তা না হলে আট দিন ধরে প্রাইমারি শিক্ষকরা বিকাশ ভবনের কাছে অনশন করছেন অথচ সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই । আজ যদি মুকুল রায় তৃণমূলে থাকতেন তাহলে কী এই দৃশ্য দেখতে হত ? কিন্ত আট দিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষকরা অনশনে রাজ্য সরকারের সমগ্র দেশজুড়ে ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে । কিন্ত কোনো ভাবান্তর নেই মুখ্যমন্ত্রীর মনে । তিনি কোনো রাখ ঢাক না রেখেই আজকের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে জানিয়ে দিলেন “যাঁরা কেন্দ্রের হারে মাইনে চান, তারা কেন্দ্রে যান! কাজ কর্ম নেই রাস্তায় বসে আছে সব!”

কিন্ত মুকুল রায় পারলেন না । একুশে জুলাইয়ের দিনে মমতা যখন ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বক্তব্য রাখছেন ঠিক তখনই প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন মঞ্চে বিজেপি নেতা মুকুল রায় । তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন , আমি তোমাদের জন্য কী করতে পারি বল। অনশন বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন রাজ্যের কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষক, তাদের দাবি পিআরটি স্কেল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় হারে বেতন। গ্রেড পে ৪২০০ টাকা করতে হবে পাশাপাশি বহুদূরে ট্রান্সফার হওয়া ১৪ জন প্রাথমিক শিক্ষককে ফিরিয়ে আনতে হবে।

গতকাল উস্থির পাঁচ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষকরা জানিয়ে দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কথা বলে তাঁরা খুশি নন। কারন পার্থ বাবু একই কথা বলছেন টাকা নেই, এক লাফে গ্রেড পে ৪২০০ করা যাবে না। তাই তাঁরা অনশন-আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অনশনকারীদের খুশি করতে তিনি বৈঠক করেন নি! শিক্ষকদের “দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থাকা উচিত” বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন “তাদের সরকার শিক্ষকদের সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেয়।” দাবি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, “এমন কোন রুল নেই যে পিআরটি স্কেল দিতেই হবে।

ওঁদের দাবি অনুযায়ী গ্রেড পে করতে হলে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এখনই সেই টাকা সরকারের নেই। ধাপে ধাপে তা বাড়ানো যেতে পারে।”

শিক্ষকদের অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বক্তব্য, “ওরা ধর্না অনশন চালিয়ে যাক আমাদের কিছু করার নেই।” শিক্ষকরা আশা করেছিলেন আজ ২১শে জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন, আসার আলো দেখবেন তাঁরা। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন “যাঁরা কেন্দ্রের হারে মাইনে চান, তারা কেন্দ্রে যান! কাজ কর্ম নেই রাস্তায় বসে আছে সব!”

মুকুল রায় অনশন মঞ্চে গিয়ে বলেন তিনি “শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন দলের সাংসদদের দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে। তিনি বলেন যতটা পারি ভাই আমি আন্দোলনের পাশে আছি। তোমরা আমাকে বলো কি করতে হবে, আমি সেটাই করব।”

তিনি আরও বলেন “আমি পরশু কেন্দ্রীয় মানব-সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব, নিশ্চিত ভাবেই বলব কিন্তু কি হবে জানিনা।” অনশন স্থলে দেরিতে আসা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আমি প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের খবর আগেই জানতাম। কিন্তু আসিনি কারন এই আন্দোলন টা অরাজনৈতিক, আমি এলে কে কিভাবে নেবেন! পরে যখন দেখলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আসছে তখন আমিও এলাম। এখানে আমি রাজনীতি করতে আসিনি।

কেন্দ্র যদি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সংশোধন করতে পারত ঝামেলা মিটে যেত, কিন্তু সে নিয়ম নেই। তাই প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রকে অনুরোধ করব” বলেও জানান তিনি।

উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের অনশন মঞ্চে কয়েক মুহুর্তে হাজির হয়েই উপস্থিত সকল শিক্ষকের মন জয় করে নেন মুকুল রায় । মুকুল রায়ের এই আগমনে রাজ্য সরকার যে আরও বেকায়দায় পড়বে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment