কলকাতা 

সরকারের অনৈতিক বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনে মানুষ গড়ার কারিগররা ; মুখ পুড়ছে মমতা সরকারের ; বুদ্ধিজীবী থেকে সাধারন মানুষের সহানুভূতি পাচ্ছে UUPTWA

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে। তাদের আন্দোলন আজকে সাতদিনে পড়ল । আমরন অনশন চলছে ৬দিন ধরে । সল্টলেকের বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তি নিচে উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অনশনে বসেছেন । তাদের দাবি ন্যায্য । বেতন বাড়ানোর দাবি । দীর্ঘদিন ধরে এই অরাজনৈতিক সংগঠনটি আন্দোলন করে চলেছে । পিআরটি স্কেলের দাবিতে । প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগ্যতার মান বেড়েছে । আগে মাধ্যমিক পাশ করে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়া যেত এখন উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ না করলে শিক্ষক হওয়া যায় না ।  আগে এক বছরের বেসিক ট্রেনিং নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়া যেত এখন তা দুবছরের হয়ে গেছে । স্বাভাবিকভাবে যোগ্যতার মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতন বাড়ানো দাবি করাটা অন্যায় নয় । তাই বেতন বাড়ানোর দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন । আর এই আন্দোলনে ক্ষিপ্ত হয়েছে সরকার । তার প্রমাণ মিলেছে , এই অরাজনৈতিক সংগঠনের ১৪ জন সদস্যকে বাড়িতে অনেক দূরে বদলী করে দেওয়া হয়েছে । আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়েছে শিক্ষকরা । তাঁরা বিকাশ ভবনের অদূরেই আমরণ অনশনে বসে সরকারকে উচিত শিক্ষা দিতে চাইছে ।

সাতদিন ধরে চলা শিক্ষকদের এই আন্দোলনে সরকার যে বিপাকে পড়তে চলেছে তার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে । শিক্ষামন্ত্রীর ঔদ্ধত্যের ফলে শিক্ষকরা আজ রাস্তায় নেমে এসেছে । অকারণে বদলীর নির্দেশ দিয়ে বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছেন । শিক্ষামন্ত্রী কারণেই মমতা সরকারের ভাল কাজও চাপা পড়ে যাচ্ছে ।

তাদের দাবি যে ন্যায্য তা নিয়ে বলতে গিয়ে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস বলেন ,পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যদি কোনও স্কুলে শিক্ষক বা শিক্ষিকা কাজে যোগ দেন  তাহলে তার নেট বেতন প্রায় ২১ হাজার ৫০০ টাকা। সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী যা অন্য রাজ্যে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। এই বেতন বৈষম্যের জন্যই আন্দোলনে নেমেছেন এই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ । এছাড়া আন্দোলন করার জন্য ১৪ জন শিক্ষককে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তাদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে চলছে আমরন অনশন।

এদিকে,শিক্ষকদের এই আন্দোলনে রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের সাড়া মিলতে শুরু করেছে । ইতিমধ্যে মিরাতুন নাহার থেকে শুরু করে পবিত্র কুমার সরকারের মত মানুষেরা এই অনশনে গিয়ে তাদের আন্দোলনকে সমর্থন করে এসেছেন । রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পবিত্র কুমার সরকার এখানে উপস্থিত হয়ে বলেছেন , প্রাথমিক শিক্ষকদের সব দাবির সঙ্গেই আমি সহমত ব্যক্ত করছি । তবে আমার সহমত ব্যক্ত করা ছাড়া আর কিছু করতে পারি না । কারণ এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব । তবে শিক্ষকদের আন্দোলন মানুষের সমর্থন পাচ্ছে । শিক্ষামন্ত্রীর উচিত ছিল অনেক আগেই এই ধরনের আন্দোলন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার । তা না করে তিনি অযথা উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে আর জটিল করে দিয়েছেন । ফলে উস্তির আন্দোলনেই হয়তো তৃণমূল সরকারের বিপদ বাড়বে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment