দেশ 

কংগ্রেস সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ; কর্মীদের চাপেই সোনিয়া কন্যার হাতেই থাকবে কংগ্রেসের ব্যাটন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনের বিপর্যয়ের দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী । প্রায় দু মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কংগ্রেস দল রাহুলের উত্তরসূরি খুঁজে পায়নি । কিন্ত দলের সংগঠনের স্বার্থে সভাপতি পদ খালি রাখা যায় না । তাই কংগ্রেস দলকে পরিচালনার জন্য কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা রাহুলকেই দায়িত্ব নিতে বার বার বলেছেন । কিন্ত রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি দায়িত্ব নেবেন না ।

শেষ পর্যন্ত দলের প্রবীণ নেতারা সোনিয়াকেই আপতত দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেন । তবে সোনিয়ার যা শারীরিক অবস্থা তাতে তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে যে পারবেন না বলাই বাহুল্যমাত্র ।

এই সংকটজনক অবস্থা কংগ্রেসকে টেনে তুলতে হলে গান্ধী পরিবারের কাউকে যে দায়িত্ব নিতে হবে তা কংগ্রেস কর্মী ভালভাবেই বুঝতে পারছে। তাই এবার আর সোনিয়া –রাহুল নয় , প্রিয়াঙ্কাকে কংগ্রেস সভাপতি করার দাবি তুলল কর্মীরা।

মনমোহন সিংহের আমলে দেশের কয়লা মন্ত্রী শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘‘অনেকেই এই দাবি তুলতে শুরু করেছেন। আমি নিজেও  প্রিয়াঙ্কাকে কংগ্রেস সভাপতি পদে বসানোর পক্ষপাতী। উনি গাঁধী পরিবারের সদস্য। চিন্তাভাবনা প্রগতিশীল। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ওঁর।’’

তিন-তিন বার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়া ভক্তচরণ দাসের কথায়, ‘‘দলের নিচুস্তরের কর্মী থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতা, লক্ষ লক্ষ কংগ্রেস সদস্যকে একটাই দাবি, রাহুলের জায়গায় প্রিয়াঙ্কাকে আনা হোক।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। প্রত্যেকেই এমনটা চান। কিন্তু সমস্যা হল, দাবিটা সঠিক জায়গায় পৌঁছচ্ছে না। প্রিয়াঙ্কা তো রয়েইছেন, সেই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য একটা টিম থাকতে হবে, আমাদের করে দেখাতেই হবে। আমার মনে হয়, রাহুল যদি নিজ সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন, পদত্যাগপত্র যদি ফিরিয়ে না নেন, তা হলে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত প্রিয়াঙ্কাজির। সরাসরি ওঁর নাম সুপারিশ করা উচিত দলের।’’

তবে দলের এত সংখ্যক কর্মী যখন এই দাবি তুলছেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ যখন এ ব্যাপারে অবগত, তা হলে প্রিয়াঙ্কার নাম সুপারিশে আপত্তি কোথায়? এ নিয়েও কংগ্রেসের তরফে নানা মত উঠে আসছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, রাহুলের মতো দলের অন্দরে প্রিয়াঙ্কার গ্রহণযোগ্যতা এখনও পর্যন্ত সে ভাবে তৈরি হয়নি। আবার মে মাসে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রিয়াঙ্কার কড়া মন্তব্য নিয়েও অনেকে তাঁর উপর চটে রয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, বৈঠকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পাল্টানো নিয়ে রাহুলকে জোরাজুরি করছিলেন শীর্ষ নেতাদের অনেকে, যা একেবারেই পছন্দ হয়নি প্রিয়াঙ্কার। তাই জানিয়ে দেন, ‘‘যাঁরা দলটাকে খুন করেছেন, তাঁরা তো এখানেই বসে রয়েছেন।’’ সেই কারণেই প্রিয়াঙ্কার নামে জোর দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে শ্রীপ্রকাশ জয়সওয়াল বলেন, ‘‘খুব শীঘ্র প্রিয়ঙ্কার নাম উঠে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার মতে, ওঁকে আনা হলে ভালই হবে। রাহুলজি বলেছিলেন গাঁধী পরিবারের বাইরের কাউকে আনার কথা। হতে পারে সেই জন্যই প্রকাশ্যে প্রিয়াঙ্কার নাম সুপারিশে ইতস্তত করছেন অনেকে।’’

সাংসদ ভক্তচরণ দাসের মতে, ‘‘কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কাজি। দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন, তাই ওঁকে ঘিরে আশা তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে। আমার মতে রাহুল গাঁধীর ইস্তফা দেওয়া উচিত হয়নি। কারণ ওঁর বিকল্প নেই আমাদের কাছে। রাজনীতির ময়দান থেকে  গাঁধীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখাই আসল লক্ষ্য বিজেপির। কিন্তু মোদী ব্র্যান্ডকে উৎখাত করতে গাঁধী ব্র্যান্ডকেই দরকার।’’

এদিকে , রাহুল গান্ধীকে আর একবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সভাপতি পদে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন ।  রাহুল সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দিলে তরুন কোনো নেতার হাতে কংগ্রেসের ব্যাটন তুলে দেওয়া হতে পারে । তবে তরুন নেতাদের মধ্যে দৌড়ে আছেন সচিন পাইলট , জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং অবশ্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী । তবে এদের তিন জনের মধ্যে সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে প্রিয়াঙ্কায় ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment