কলকাতা 

বাংলার প্রথম সারির বুদ্ধিজীবী আবদুর রাউফের স্ত্রী ও পুত্রের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন আসলে কী করতে চাইছে জানতে চান ? ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিভাগ –উত্তর বাংলায় লেখক প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি খ্যাতির আসনে প্রতিষ্ঠিত । বাংলার দশজন প্রথম সারির বুদ্ধিজীবী নাম লিখতে বললে তাঁর নাম আসবেই । শুধু তাই নয় , তাঁর স্ত্রী পশ্চিমবাংলার অভিজাত মুসলিম পরিবারের কন্যা । স্ত্রীর বাবা-মায়ের শিকড় নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ কারও নেই । একজন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক –লেখক আবদুর রাউফ , আর একজন হলেন তাঁর স্ত্রী মুস্তাবসেরা । এত কথা লেখার কারণ একটাই । এদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ নির্বাচন কমিশন । আবদুর রাউফ জন্মসূত্রে হুগলী জেলার তারকেশ্বরের গয়েশপুরের বাসিন্দা । তাঁরা প্রায় চল্লিশ বছর ধরে কলকাতায় বসাবাস করছেন ।৭ নম্বর মেহের আলি রোড। এখানেই দীর্ঘ দিনের বাসিন্দা আব্দুর রাউফ। স্ত্রী মুস্তাবসেরা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াতেন। ছেলে কিছু দিন হল সহকারী অধ্যাপকের চাকরি পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ৬ জুলাই পাঠানো  নির্বাচন কমিশন থেকে একটি চিঠি রাউফ সাহেবের পরিবারকে চিন্তায় ফেলে দেয় ।  ওই চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, ৭ নম্বর মেহের আলি রোডের ঠিকানার বাসিন্দা নন (শিফটেড) আব্দুর সাহেবের স্ত্রী মুস্তাবসেরা ও ছেলে আসাদ। কিন্তু গৃহকর্তার নামে এমন কোনও চিঠি আসেনি। শুধুমাত্র স্ত্রী ও পুত্রকে কমিশন কার্যত‘গৃহহীন’ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ আব্দুর সাহেবের।

শুধু তাই নয়, বাড়িতে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধি নোটিসও ধরিয়ে দেন। ১৪ জুলাই দু’জনকে হাজিরা দিতে বলা হয়। এই নোটিস পাওয়ার পর রীতিমতো হতবাক মুস্তাবসেরা! তাঁর প্রশ্ন, একই পরিবারে একজনকে বাদ দিয়ে বাকি দু’জনের নামে এমন চিঠি কী করে আসে?

নোটিস পাওয়ার পর গোপালনগরে দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে হাজিরা দিতে যান মুস্তাবসেরা। তিনি ছেলের লেখা একটি চিঠিও নিয়ে যান সেখানে। এত দিন ধরে কলকাতায় থাকার পরেও, তাঁকে এখানকার বাসিন্দা বলে প্রমাণও দিতে হয় বলে আক্ষেপ মুস্তাবসেরা রউফের। নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটার কার্ডে যে ঠিকানা থাকে, সেখানে আদৌ ভোটাররা থাকেন কি না বা ভুয়ো ভোটার রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে কমিশন। এটা প্রতিবছরই হয়ে থাকে। যদি দেখা যায়, সেই ঠিকানায় ভোটার নেই, তাহলে তালিকা থেকে সেই নাম বাদ যায়।

এখানেই প্রশ্ন মুস্তাবসেরার স্বামীর, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে না তো? অসমের মতো এখানেওএনআরসি হচ্ছে না তো! যেহেতু এনআরসি করা যাচ্ছে না, তাই সরকারি প্রোগ্রামের মধ্যেই এনআরসি-র উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নোটিস পাঠানোর আগে বাড়ি এসে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল কমিশনের আধিকারিকদের। তা হয়নি। সেটা যদি হতো তাহলে এমন চিঠি বাড়িতে আসত না বলে মনে করছেন আব্দুর রাউফ।

আদৌ বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর করা হয়েছিল? রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “রাজ্য জুড়েই ভোটার তালিকা সংশোধন করে তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর করে রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। ওই ঠিকানায় কেউ না থাকলে, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। যাঁরা অভিযোগ করছেন, সেখানেও সরেজমিন খতিয়ে দেখার কথা। তার পর নোটিস যাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে এমন বিভ্রান্তি কেন হল, তা নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখা হবে।”

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কী ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালেই চলেছে এনআরসি প্রক্রিয়া । অবশ্য এনআরসি নিয়ে ভারতের নাগরিকদের আপত্তি থাকার কথা নয় । কারণ কোনো নাগরিককেই বাদ দেওয়া যাবে না । কিন্ত ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচন কমিশন যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করলেন তা কাম্য নয় । কারণ , যে ভোটার সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন সেই ভোটারের নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কী কমিশনের আছে ?

ঋণ স্বীকার : ডিজিটাল আনন্দবাজার


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment