জেলা 

বনগাঁ পুরসভা কার ? যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের লড়াইয়ে উত্তাল এলাকা ; অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে চলল বোমাবাজি , অসহায় নাগরিকরা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা ভোটকে ঘিরে দুই যুযুধার রাজনৈতিক দলের দাবি পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বনগাঁ এলাকা । সম্প্রতি তৃণমূলের দখলে থাকা বনগাঁ পুরসভার ১৪ কাউন্সিলার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন । ফলে তৃণমূলের ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৪ জন বিজেপিতে চলে যাওয়ায় । বিজেপির পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় । ইতিমধ্যে আবার বিজেপির ১৪ জনের মধ্যে তিন জন তৃণমূলে ফিরে আসেন । ফলে বিজেপি কাউন্সিলার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১১ জনে । আর তৃণমূলের কাউন্সিলার সংখ্যা হয় ৯ জন । ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই কাউন্সিলার সংখ্যার দিক থেকে বনগাঁ পুরসভায় দখলে চলে যাওয়া কথা বিজেপির ।

কিন্ত ঘটনার মোড় নেয় কয়েক দিন আগে। বিজেপিতে যাওয়া দুই কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ । এরা আবার কলকাতা হাইকোর্টে এক সপ্তাহের জন্য জামিন পেয়ে যায় । জামিন পাওয়ার পর তারা আজ বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে যায় । তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ । পুলিশ তাদের কাছ থেকে হাইকোর্টের রায়ের প্রতিলিপি দিতে বলে । এর ফলে এই দুই জন কাউন্সিলার ভেতরে ঢুকতে দেরি করে বলে অভিযোগ ।

অন্য দিকে, বিজেপির কাউন্সিলর পুরভবনের ভিতরে ঢুকলেও তাঁরা অনাস্থার ভোটাভুটি যে কক্ষে নেওয়ার কথা, সেখানে ঢোকেননি। তাঁদের বক্তব্য, দলের দুই কাউন্সিলর হিমাদ্রি কার্তিকের জন্য জন্য তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা না আসায় অনাস্থা কক্ষে ঢোকেননি।

রাজ্য পুর আইন অনুযায়ী, যে পক্ষ অনাস্থা আনবে, তাকেই সেই অনাস্থা প্রমাণ করতে হবে। মঙ্গলবার সেই সময়সীমা ছিল বিকেল তিনটে পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বিজেপি কাউন্সিলররা অনাস্থা প্রক্রিয়ায় অংশই নেননি। ফলে কার্যত অনাস্থা প্রক্রিয়াই ভেস্তে গিয়েছে, যার অর্থ, ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। অনাস্থা প্রমাণ করতে পারেনি বিজেপি। এমনটাই দাবি তৃণমূলের। পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য বলেন, ‘‘বিকেল ৩টে পর্যন্ত সময়সীমা ছিল। কিন্তু এক্সিকিউটিভ অফিসার তার পরও আরও আধঘণ্টা অর্থাৎ সাড়ে তিনটে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।  অনাস্থার পক্ষে কেউ আসেননি। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছি।’’

কিন্তু নাটকে এখানেই যবনিকা পড়েনি। বিজেপি আবার পাল্টা দাবি করেছে, তাঁরা অনাস্থায় জয়ী হয়েছে। এবং আইন মেনেই তা হয়েছে। কী ভাবে? কাউন্সিলরদের দাবি, সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁরা এক্সিকিউটিভ অফিসারের ঘরে গিয়েছিলেন। অনাস্থার পক্ষে তাঁদের দলের ১১ কাউন্সিলর ভোট দিয়েছেন। অনাস্থার বিপক্ষে কেউ ছিলেন না। ফলে ১১ ব্যবধানে জিতে তাঁরা বনগাঁ পুরসভায় জয়ী হয়েছে।

ভোটাভুটিতে অংশ নেবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছিল সিপিএম। অর্থাৎ হাউসে উপস্থিত কাউন্সিলরদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১। উপস্থিতির ভিত্তিতে ম্যাজিক ফিগার দাঁড়ায় ১১। সেই সূত্রেই বিজেপিও পুরসভা দখলের দাবি করেছে।

ভিতরে যখন এই অনাস্থা ঘিরে এই চরম টানপড়েন চলছে, বাইরে তখন তুমুল অশান্তি। বিজেপি কর্মী সমর্থকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ, জমায়েত শুরু করেন। পুলিশও মাঝে মধ্যেই তাঁদের দিকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়ে নিরস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাড়ে তিনটে নাগাদ তৃণমূল পুরসভা দখলের দাবি করতেই পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মীরা পুরভবন চত্বরের দোকানপাট এবং কার্যত সামনে যা পান, তাই ভাঙচুর করতে শুরু করেন। পুলিশর ও র‌্যাফের সামনেই ছোড়া হয় বোমা। বেশ কিছুক্ষণ এই উত্তেজনা চলার পর পুলিশ র‌্যাফ মৃদু লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। যদিও তার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গোটা এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে।

২২ আসনের বনগাঁ পুরসভা ছিল তৃণমূলের দখলে। কাউন্সিলরের সংখ্যা ছিল ২০। এক জন করে কাউন্সিলর ছিল সিপিএম এবং কংগ্রেসের। কিন্তু সম্প্রতি ১৪ জন কাউন্সিলর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তার মধ্যে অবশ্য পরে তিন জন ফিরেও যান তৃণমূলে। অর্থাৎনতুন সমীকরণ দাঁড়ায় বিজেপি ১১, তৃণমূল , কংগ্রেস , সিপিএম ১।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment