দেশ 

অসমের ৩০ টি জেলা বিহারের ১২টি জেলা জলের তলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে , মৃত ৪৪

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অসম-বিহারে বন্যা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগ জনক।বানভাসী প্রায় ৭০ লাখ বাসিন্দা। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ইতিমধ্যেই ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে অসমের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ৩৩টি জেলার মধ্যে ৩০টি জেলাই বানভাসী। শুধুমাত্র অসমেই ৪৩ লাখ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫।কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের ৯৫ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৭টি বন্য প্রাণীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ৯০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিপদসীমা অতিক্রম করে বিধ্বংসী আকার নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। বন্যার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আপার অসমের বোকাখাট শহর

ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়াল। রাজ্য সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে বিহারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বিহারের ১২টি জেলার বাসিন্দা বানভাসি হয়ে পড়েছেন। প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। নেপালের ক্রমাগত বর্ষণ আর সব নদীর জল বাড়ার কারণেই বিহারের নদীগুলির জল বাড়তে শুরু করেছে। একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

পূর্ব চম্পারণ জেলায় জলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জন শিশুর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার আধিকারিকদের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখতে বলেছেন। তিনি নিজেও প্রতিনিয়ত রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

রাজ্যের পাঁচটি নদী ভাগমতী, কমলা বালান, লালবাকেয়া, আধওয়ারা এবং মহানন্দা বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এদিকে মিজোরামেও বন্যা পরিস্থিতি তৈির হয়েছে। প্রায় ৩২টি গ্রাম বানভাসী। ১০০০ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত সাতদিন ধরে মেঘালয়ে লাগাতার বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পশ্চিম গারো পাহাড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত। ডিমডিমা ব্লকের ৫০ টি গ্রামের ৬৬, ৪০০ বাসিন্দা এবং সলসেলা ব্লকের ১০৪টি গ্রামের বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ত্রিপুরার বন্যা পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে খোয়াই এবং হাওরা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পশ্চিম ত্রিপুরার প্রায় ১৩,০০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment