কলকাতা 

দিলীপ ঘোষের কাছে হেরে গেলেন মুকুল ; রাজ্য নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না নির্দেশ বিজেপির

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মুকুল রায়কে শেষ পর্যন্ত দিলীপ ঘোষের কাছে হেরে যেতে হল । দলের শক্তি বাড়াতে তৃণমূল ভেঙে যেভাবে পঞ্চায়েত প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিধায়কদের বিজেপিতে যোগদান চলছিল তাতে মনে হচ্ছিল সমগ্র  তৃণমূল দলটাকেই এবার বিজেপিতে নিয়ে চলে যাবেন মুকুল রায় । রাজ্য আরএসএস নেতারা দলের বোনোজলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ; কিন্ত নাগপুরের সংকেত স্পষ্ট বিজেপিকে বাংলায় বাড়তে দেওয়া হোক ।

অপরদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কর্মী নেতাদের দলে নিতে চাইছেন না । তিনি মনে করছেন বিজেপি এমনিতেই ক্ষমতায় এসে যাবে । এদিকে লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে রাজ্য দলের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং মুকুলবাবুর হাত ধরে তৃণমূল এবং সিপিএম থেকে কয়েক জন জনপ্রতিনিধি দল বদল করেছেন। তাঁদের মধ্যে লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে বিজেপিতে নেওয়ায় দলের অন্দরে বিদ্রোহ হয়েছে। যার জেরে বিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে মনিরুলকে।

হালিশহর এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন, তাঁদের সিংহভাগই ফিরে গিয়েছেন তৃণমূলে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের তিন তৃণমূল সদস্যও দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যে ফিরে ফের পুরনো দলে চলে গিয়েছেন। বিজেপি সূত্রের খবর, এই তিনটি ঘটনার প্রেক্ষিতে দলের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, রাজ্য নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে কাউকে দলে নিলে পরিণতি ভাল হয় না। কারণ, সে ক্ষেত্রে যাঁরা দলে ঢুকছেন, তাঁদের সম্পর্কে বিশদ তথ্য আগে থেকে যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ রাজ্য নেতৃত্বের থাকছে না।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দলে যাঁরা নতুন যোগ দিচ্ছেন, স্থানীয় নেতৃত্বকে এড়িয়ে তাঁরা রাজনীতি বা সংগঠন করতে পারবেন না।’’ আর মুকুলবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘দল কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা মেনেই কাজ করতে হবে। তার বাইরে গিয়ে কিছু করার প্রশ্ন নেই।’’

বিজেপি সূত্রের ব্যাখ্যা, পর পর কিছু ঘটনায় দলের মুখ পোড়ার পরে দলের ভিতরে বলে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ না করে দিল্লিতে গিয়ে যোগদান করছেন, তাঁদের দিল্লিতেই রাজনীতি করতে হবে। এ রাজ্যে তাঁদের কোনও রাজনৈতিক কাজ থাকবে না। আগামী বিধানসভা ভোটে তাঁদের প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নও পূরণ না হতে পারে। এ রাজ্যে রাজনীতি করতে চাইলে দলের সাংগঠনিক রীতি মেনে রাজ্য নেতৃত্বের অধীনে কাজ করতে হবে।

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment