জেলা 

ছেলেধরা সন্দেহে আলিপুরদুয়ারে গণপিটুনি ; পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : অন্য রাজ্যগুলির মত এই রাজ্যেও গণ-পিটুনির ঘটনা বেড়েই চলেছে । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার বলা সত্ত্বে এই ঘটনা কমছে না । আলিপুরদুয়ারের গত এক মাসে চারটি গণ-পিটুনির ঘটনা ঘটল । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে । গত শনিবার আবার ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটল রাজ্যের আলিপুরদুয়ারে ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এ দিন যে যুবক মার খেয়েছে, তার নাম সনুজ ঋষি। ৩৫ বছরের ওই যুবকের বাড়ি বিহারের কাটিহারে। খানিকটা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবক কোনও ট্রেনে চেপে আলিপুরদুয়ার জংশনে চলে আসেন। বাগানের চৌকিদারদের ইনচার্জ ভীম বাগুয়ার জানান,  শনিবার ভোরে ওই যুবককে চা বাগানে ঘুরতে দেখে চৌকিদাররা তাঁকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। বিষয়টি চা বাগান কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, এরই মধ্যে শ্রমিক মহল্লায় সেই খবর পৌঁছে যায়। এর পরই সেখানে ভিড় জমতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে যুবককে ধরে পেটাতে শুরু করে জনতা। খবর পেয়ে প্রথমে জংশন ফাঁড়ি ও তার পর আলিপুরদুয়ার থানার বিশাল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

সূত্রের খবর, পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বারবার তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন যুবকটিকে বাগানের একটি অফিসে নিয়ে যায়। জনতা সেখানেও চড়াও হয়।

আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী জানান, পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। গণপিটুনির শিকার হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় সাত জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, পরে ওই সাত জনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

গত এক মাসে আলিপুরদুয়ারে এই নিয়ে চতুর্থ গণপিটুনির ঘটনা। জুন মাসের মাঝামাঝি পাটকাপাড়া চা বাগানে ছেলেধরা সন্দেহে এক বৃদ্ধকে পেটায় জনতা। এর কিছু দিন পরে ছেলেধরা সন্দেহেই কালচিনির রায়মাটাং চা বাগানে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একই কারণে দিন কয়েক আগে কালচিনির দলসিংহপাড়া চা বাগানে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা রুখতে পুলিশের তরফে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তাতেও যে পরিস্থিতি একই রয়েছে, তা শনিবার ভোরে মাঝেরডাবরি চা বাগানের ঘটনাই প্রমাণ করল।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment