অন্যান্য প্রচ্ছদ 

ইসলাম ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষায় নয়া দিগন্ত সৃষ্টি করেছে রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়া আরাবিয়া

শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম

আরবি-ফার্সী শিক্ষার মান নাকি কমে যাচ্ছে! এটাই আমাদের বেশির ভাগ মানুষের জিঞ্জাসা।আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আরবি ও ফার্সী শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে তা সঠিক ভাবে পড়ানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। কিন্ত মূল বিষয় হল,গোড়াতেই গলদ।প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরে যে আরবি পাঠের ব্যবস্থা আছে, সেখানেই যথাযথভাবে আরবি শেখানো হচ্ছে না। তাই আরবি ভাষা সাহিত্য নিয়ে উচ্চ ডিগ্রি লাভ করলেও তারা ভাল করে আরবি ভাষায় প্রবন্ধ কিংবা লেখালিখি করতে পারছেন না।তাই প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্তরেই ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞান সহ আরবি-ফার্সী শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাবেতায়ে ইসলামিয়া আরাবিয়া। দারুল উলুম দেওবন্দের অনুমোদন সাপেক্ষে রাজ্যে এক হাজারের বেশি মাদ্রাসায় আরবি ও ইসলামিয়া শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই সব মাদ্রাসায় ছাত্রদের থাকা-খাওয়া-দাওয়া-বইপত্রের সব খরচ মাদ্রাসাগুলি বহন করে।

উল্লেখ্য,১৯৯৮ সালে দারুল দেওবন্দের তৎকালিন উপাচার্য হযরত মাওলানা মারগুবুর রহমান(রহঃ) সাহেবের সভাপতিত্ত্বে “ নিখিল ভারত রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়া আরাবিয়া” তথা সারা ভারতে দারসে নিজামী বেসরকারি মাদ্রাসা সমূহের সমন্বয় সমিতি গঠিত হয়।৪ হাজারের অধিক মাদ্রাসা সর্ব-ভারতীয়ভাবে রাবেতার অর্ন্তভুক্ত। দারুল উলুম দেওবন্দের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১৯৯৯ সালে গড়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়া আরাবিয়া।রাজ্য পর্যায়ে এক হাজারের অধিক মাদ্রাসা রাবেতার সঙ্গে যুক্ত আছে।জমিয়তের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি রাবেতারও রাজ্য সভাপতি এবং দেওবন্দের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে এই মাদ্রাসাগুলিকে পরিচালনা করছেন।

এ প্রসঙ্গে জনাব মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন,মাদ্রাসা শিক্ষা-ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনপ্রিয় ও গতিশীল করার লক্ষে এবং পাঠরত ছাত্রদের মেধা-সম্পদকে যথাযথভাবে পরিচর্যা করার জন্য রাবেতায়ে মাদারিস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর রাজ্যজুড়ে রাবেতার মাদ্রাসাগুলিতে একই সিলেবাস অনুসরণ করা ,একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এরাজ্যে একমাত্র রাবেতার মাদ্রাসাগুলি বিগত ১৫ বছর ধরে পরীক্ষা নিয়ে চলেছে। তিনি বলেন,এবছর রাজ্যের ২১টি জেলায় ৪৮টি সেন্টারে ১৭,১৩৯ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়েছে। রাবেতার কর্মকান্ডকে সুচারুভাবে পরিচালনা করার জন্য জেলায় জেলায় কমিটি গঠন করে কার্যালয় খোলা হয়েছে। রাজ্যে রয়েছে ৪২ জনের কমিটি।এই কমিটি পড়াশোনার মানের দিকে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। মাদ্রাসাগুলির বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসেব পরীক্ষা করে এই কমিটি।পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ,ছুটির তালিকা তৈরি করা ,সিলোবাস তৈরি করার কাজ করে এই কমিটি। এখানেই শেষ নয়,পঠন-পাঠনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূযোর্গ,বন্যা,খরায় এসমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্টানগুলির শিক্ষক ছাত্ররা সাধ্যমত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।

জনাব সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি আরও বলেন,আথির্ক অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের গণবিবাহের আয়োজন করে এই সব মাদ্রাসাগুলি। হাদিস,কুরআন,ফেকাহ,আকায়েদ সহ নিভের্জাল দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা,অঙ্ক,ইংরেজিও গুরুত্ব সহকারে এখানে পাঠদান করা হয়।একইসঙ্গে দেওয়া হয়,মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাও। যাতে আগামী দিনে দেশ এক উন্নত চরিত্রের বলিষ্ঠ সন্তান পায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখে রাবেতার মাদ্রাসাগুলি। তিনি আরও বলেন,আমরা এই মাদ্রাসাগুলির মাধ্যমে এমন এক নাগরিক গড়ে তুলতে চাই, যারা দেশের অখন্ডতা,স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে পারবে। মোট কথা হল,দেওবন্দের দেশপ্রেমকে সামনে রেখে আধুনিক শিক্ষার প্রতি আস্থা রেখে ইসলামী শিক্ষার এক নয়া দিগন্ত সৃষ্টির লক্ষে রাবেতায়ে মাদারিসে ইসলামিয়া আরাবিয়া কাজ করে চলেছে। ইসলাম ও দেশের ভাবী প্রজন্মের জন্য এমন শিক্ষা-দানের ব্যবস্থা আমাদের দেশে খুব কমই রয়েছে।


শেয়ার করুন
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment