দেশ 

আর্থিক সংকটে রেল : একশো টাকা আয় হলে খরচ ৯৮ টাকা ; পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য পিপিপি মডেল গ্রহণ করেছে সরকার সংসদে স্বীকার রেল মন্ত্রীর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কংগ্রেস আমল বিদায় নিয়েছে । তাই রেল দফতরের আর কোনো গুরুত্ব নেই । নেই তার আলাদা কোনো বাজেট । সুতরাং বাজেট বির্তক হওয়ার কথা নয় । বাজেট বরাদ্দ যিনি করেছেন তিনিই তো সিদ্ধান্ত নেবেন কী করবেন । তবু মোদী সরকার বাজেট বির্তকটা রেখেছে । সেই বাজেট বির্তকে রেল মন্ত্রী পীযুস গোয়েল যা বললেন তাতে স্পষ্ট আর্থিক সংকটে ভুগছে রেল ।

গতকাল প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে জবাবি বক্তৃতায় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্বীকার করে নেন, রেলের হাতে বাড়তি অর্থ নেই বললেই চলে। কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশনের বর্ধিত ভাতা ও পেনশন দিতে গিয়ে রেলের অপারেটিং রেশিও এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ একশো টাকা আয় করতে খরচ হচ্ছে ৯৮ টাকা। তবে রেল মন্ত্রক টাকার অভাবে প্রকল্প রূপায়ণে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে বলে বিরোধীরা যে অভিযোগ এনেছেন, তা অস্বীকার করে পীযূষ বলেন, ‘‘বেসরকারিকরণের কোনও প্রশ্নই নেই। রেল বেসরকারি হাতে যেতে পারে না। কিন্তু পরিষেবা বাড়াতে গেলে বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই কারণে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ (পিপিপি মডেল)-এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।’’ তবে কিছু ক্ষেত্রে বিলগ্নিকরণের বিষয়ে যে ভাবা হচ্ছে, তা-ও মেনে নিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

পীযূষ এ দিন জানান, রেলে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ জোর গতিতে চলছে। মূলত জোর দেওয়া হচ্ছে রেলের বুনিয়াদী পরিকাঠামো উন্নয়নে। রেল মন্ত্রকের মতে, গত কয়েক বছরে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হল লাইনে চিড় ধরা। তাই পরিকাঠামো খাতের বড় অংশই বরাদ্দ হয়েছে লাইন পাতার খাতে। নতুন লাইন পাতা, পুরনো লাইন পাল্টে ফেলার উপরে জোর দেওয়ার মতো খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৭,২২৫ কোটি টাকা। নতুন লাইন পাতার পিছনে আরেকটি যুক্তি হল, চলতি ব্যবস্থাতেই রাজধানী ও শতাব্দীর মতো ট্রেন যাতে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে, সেই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেল। পুরনো লাইন বদলে উন্নত মানের লাইন পাতার কাজ চলছে দিল্লি-হাওড়া, হাওড়া-চেন্নাই, দিল্লি-মুম্বই রুটে।

এ ছাড়া যথাক্রমে ২২০০ কোটি ও ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে গেজ পরিবর্তন ও ডাবলিং-এ। ওই টাকায় মোট ৩,৭৫০ কিলোমিটার নতুন লাইন বসতে চলেছে বলে জানিয়েছে রেল দফতর।

রেল মন্ত্রকের দাবি, সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনা এবং তাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেশ কমেছে। পাশাপাশি স্টেশনগুলিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিবেশ-বান্ধব বায়ো-টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোর কাজে গতি এসেছে বলেও দাবি রেল মন্ত্রকের।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment