কলকাতা 

‘‘আজ যখন শুনি বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ভীত, শঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরোন এই শহরে, তখন আমার গর্বের শহরকে চিনতে পারি না। এ সব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।’’ : অমর্ত্য সেন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাঙালি নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবার সরাসরি বললেন জয় শ্রীরাম , রাম নবমী এসব কোনো কিছুর সঙ্গে বাঙালির কোনো যোগ নেই । এখানে দূর্গাপুজো হয় , কালি পুজো হয় । নতুন এই সংস্কৃতি বাংলায় ছিল না । এটা বিভেদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমদানী করা হয়েছে । গতকাল শুক্রবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ বক্তব্য রাখেন । বিষয় ছিল : ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিতে কলকাতা’।কলকাতার  স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন , একটা সময় কলকাতায় বামপন্থী আন্দোলন দানা বেধে ছিল । সমগ্র বাংলা জুড়ে তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল । পঞ্চাশের দশকে ‘এলিট’ প্রেসিডেন্সির পড়াশোনা, ছাত্র রাজনীতি থেকে কফি হাউস, কেমব্রিজ থেকে ফিরে এসে তরুণ বামমনস্ক ছাত্রের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়া এবং সেই সূত্রে অর্থনীতির পাঠ্যক্রম নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা— সব প্রসঙ্গই ছুঁয়ে যান অমর্ত্যবাবু। মনে করিয়ে দেন, কলেজ স্ট্রিট, প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের বৌদ্ধিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের কথা । এরপরেই তিনি মুখ খুললেন বাংলার সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অপ্রীতিকর সমস্যার দিকে । তিনি জয় শ্রীরাম শ্লোগান সম্পর্কে বলেন , ‘‘লোককে প্রহার করতে হলে এখন এ সব বলা হচ্ছে।’’ বাংলায় এ সব ‘ইদানীংকালে’র আমদানি। বঙ্গ সংস্কৃতিতে কোনও কালেই এ ধরনের স্লোগানের কোনও জায়গা ছিল না।

শুক্রবার সকালেও শিশির মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও বঙ্গ সংস্কৃতি এবং হিন্দুত্ববাদের ‘আস্ফালন’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন অমর্ত্যবাবু।  তিনি বলেন,‘‘যখন শুনি কাউকে রিকশ থেকে নামিয়ে কিছু একটা বুলি আওড়াতে বলা হচ্ছে এবং তিনি বলেননি বলে মাথায় লাঠি মারা হচ্ছে, তখন শঙ্কা হয়। বিভিন্ন জাত, বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য আমরা রাখতে দিতে চাই না। ইদানীং এটা বেড়েছে।’’

এদিন যাদবপুরের সভায়  অমর্ত্যবাবু আবারও বলেন, ‘‘আজ যখন শুনি বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ভীত, শঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বেরোন এই শহরে, তখন আমার গর্বের শহরকে চিনতে পারি না। এ সব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।’’ বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জয় শ্রীরাম, রাম নবমী— এ সব কোনও কিছুর সঙ্গেই বাঙালির কোনও যোগ নেই। এখানে দুর্গাপুজো হয়। বস্তুত, নতুন এই সংস্কৃতি আমদানির পিছনে বিভেদের রাজনীতি কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত দেন অমর্ত্যবাবু। তাঁর মতে, এক সময় হিন্দু মহাসভা এ ধরনের সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বাংলায়। বিভেদের রাজনীতির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন বিজেপি ঠিক সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলায় ‘জয় শ্রীরাম’ সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য শোনার জন্য তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ ছিল লক্ষনীয় । গান্ধী ভবন পুরোপুরি ভরে যায় । ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারন তাঁর বক্তব্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে শোনেন । এ প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন , তরুণদের এই উৎসাহ আমাকে আনন্দ দিচ্ছে । আগামী দিনে বিভেদকামীরা বাংলায় সফল হবে তা এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment