কলকাতা 

রাজ্যে বিজেপিকে বাড়াতে হবে মুকুল রায়ের তত্ত্বেই কী শীলমোহর নাগপুরের ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্য বিজেপিতে এখন মুকুল রায়ের তত্ত্বই প্রাধান্য পেতে চলেছে । বেশ কয়েক দিন ধরে রাজ্য বিজেপি ও রাজ্য আরএসএসের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলেছে । রাজ্য আরএসএসের বক্তব্য ছিল দলে বেনোজল আটকাতে হবে । আর মুকুল রায়ের বক্তব্য ছিল দলকে বাড়তে হবে । দল ক্ষমতায় আসার পর তখন বিবেচনা করা হবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না দেওয়া হবে না।

এবার বেনোজল বির্তকে চূড়ান্ত শীলমোহর দিল নাগপুরের আরএসএসের প্রধান কার্যালয় । তারা বলছে , পশ্চিমবাংলায় বিজেপিকে বাড়তে হবে । তাই বেনোজলকেও স্বাগত জানাতে হবে । ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর অনুযায়ী ,আরএসএস সদর দফতর স্পষ্ট জানাচ্ছে— রক্ষণশীলতা দেখানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ক্ষমতায় আসতে হলে ক্যাডার ভিত্তিক দল থেকে বড় জনভিত্তি সম্পন্ন দলে (মাস-পার্টি) পরিণত হওয়া জরুরি বলে নাগপুর মনে করছে। কিন্তু আরএসএস-এর দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের কার্যবাহ জিষ্ণু বসু বলছেন, ‘‘রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, এ রকম ভাবার কোনও কারণ নেই।’’ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

বঙ্গ আরএসএস-এর মুখপত্র ‘স্বস্তিকা’র যে চারটি সংখ্যা জুন মাসে প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে তিনটিতেই বিজেপিতে ‘বেনোজল’ ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে জোরদার সওয়াল করা হয়েছে। ৩ জুনের সংখ্যায় এই ‘বেনোজল’ প্রসঙ্গে কিছু লেখা হয়নি। কিন্তু ১০ জুন, ১৭ জুন এবং ২৪ জুন— এই তিনটি সংখ্যাতেই বিজেপি-কে অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি রোখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ‘স্বস্তিকা’র তিনটি সংখ্যায় অন্তত সাতটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে পুরনো কর্মীদের এবং সঙ্ঘের শিক্ষায় শিক্ষিতদের উপরে ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়ে। এই সাতটি নিবন্ধের মধ্যে একটি আবার সম্পাদকীয় প্রতিবেদন এবং আর একটি হল আরএসএস-এর দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের কার্যবাহ জিষ্ণু বসুর নিজের লেখা।

জিষ্ণু বসু লিখেছেন, ‘‘অপরাধীদের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য অপরাধীদেরই প্রয়োজন, এটি অর্থহীন, সর্বনাশা যুক্তি। এত কাল সঙ্ঘের লড়াই, শ্যামাপ্রসাদের লড়াই, জনসঙ্ঘের লড়াই, ভারতীয় জনতা পার্টির লড়াই নিঃস্বার্থ কার্যকর্তারা লড়াই করেছেন। আজও জিততে হলে সেই লড়াই করে আত্মবলেই জিততে হবে।’’ অর্থাৎ রাজ্য বিজেপি-কে সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত কার্যবাহের বার্তা— আদর্শনিষ্ঠ কর্মীদের ভরসাতেই পরবর্তী লড়াইয়ে নামতে হবে, শুধুমাত্র ক্ষমতায় আসার জন্য দলে হু হু করে লোক বাড়ানোর কথা ভাবলে চলবে না।

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কথাও যদি বিজেপি ভাবে, তা হলে সে লক্ষ্য পূরণের জন্যও সঙ্ঘের শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মীরা যথেষ্ট— এমন ইঙ্গিতও রয়েছে জিষ্ণু বসুর লেখায়। বিভিন্ন সময়ে সঙ্ঘের যে সব কর্মী খুন হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের কথা উল্লেখ করে জিষ্ণু লিখেছেন, ‘‘আজকের লড়াই জেতার জন্য আরও শত শত প্রশান্ত মণ্ডল, অভিজিৎ সর্দার, অনাদি, পতিতপাবন, সুজিতরা টকটকে লাল রক্ত দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। এক বার ডাক দিয়ে দেখুন না! তা না করে যদি ভাড়াটে গুণ্ডা, জেহাদি নরপিশাচ, দাগি আসামিদের দলে নেন, তবে এত কালের তপস্যা বৃথা হয়ে যাবে।’’

যাঁরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাঁদের গ্রহণ করার বিষয়ে সঙ্ঘের বঙ্গ নেতৃত্বের অনীহা কতটা, জিষ্ণুর এই লেখায় এবং স্বস্তিকার অন্যান্য প্রতিবেদনে তা বেশ স্পষ্ট। কিন্তু সঙ্ঘের সদর দফতর মোটেই এতটা রক্ষণশীল ভাবে ভাবছে না। জিষ্ণু বসু বলছেন, ক্ষমতায় আসাটাই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু নাগপুরের কর্তারা বলছেন, একমাত্র লক্ষ্য না হলেও, ক্ষমতায় আসাটা একটা সময়ে রাজনৈতিক দলের পক্ষে জরুরি হয়ে পড়ে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment