জেলা 

প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল ব্যান্ডেল ষ্টেশনে কেন খুন হলেন তৃণমূল নেতা ? জানতে চান ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যান্ডেল ষ্টেশনে গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছে তৃণমুল কংগ্রেস পরিচালিত ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতে প্রধান রীতু সিংহের স্বামী দিলীপ রামকে । পুলিশ তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে । পুলিশ জানতে পেরেছে দিন দুয়েক আগে ফোনে দিলীপ রামকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল । দু-দুবার খুনের হুমকি ফোন এসেছিল তাঁর কাছে। পুলিশ জানতে পেরেছে সেই ফোন এসেছিল ঝাড়খণ্ড থেকে।

দিলীপ রামের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে হুমকি ফোনের কথা জানানো হয়েছিল। দুটো ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছিল পুলিষকে। কিন্তু কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছিল ওই দুই ফোন। এই খুনের সঙ্গে ওই ফোনের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে দলের তরফে। এই খুনের প্রতিবাদে রবিবার ২৪ ঘণ্টার চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকা বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, অনেক দিন ধরেই খুনের ছক কষা হয়েছিল। দিলীপ রাম গতিবিধির উপরে রাখা হচ্ছিল তীক্ষ্ণ নজর। খুনের আগে রেইকিও করা হয়েছিল।

শনিবার সাতসকাল ব্যান্ডেল স্টেশনে শ্যুট আউট করা হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে। তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এদিন সকালে ব্যান্ডেল স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যখন ট্রেন ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন দিলীপ রাম, তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা। গুলি লাগে তৃণমূল নেতার মাথার পিছনে। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এদিকে এলাকায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ছাঁট লোহার কারবার নিয়ে পাসওয়ান-ভাইদের সঙ্গে পুরনো শত্রুতা ছিল দিলীপের। সেই শত্রুতার কারণেই এই খুন কি না তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

দিলীপ পূর্ব রেলে চাকরি করতেন। নৈহাটিতে কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রে ছাঁট লোহার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দিলীপের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। এ নিয়ে লালা পাসওয়ান এবং তাঁর ভাই বিজুর সঙ্গে বিরোধিতা ছিলই। কিন্তু চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন ভাল থাকার কারণে  এবং দিলীপের স্ত্রী ঋতু সিংহ ব্যান্ডেল পঞ্চায়েতের প্রধান হওয়ায়, পাসওয়ান-ভাইরা ছাঁট লোহার কারবারে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে নতুন করে এলাকা দখলে নামে বিজু। স্থানীয়দের একাংশের মত, জেলে থাকা লালার নির্দেশেই ভাই বিজু এলাকায় নতুন করে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। আর সেই লোহার ছাঁট নিয়েই শেষ পর্যন্ত চলে যেতে হল দিলীপকে বলে এলাকার মানুষ মনে করছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment