কলকাতা 

কাটমানি ইস্যুতে চলছে দশ জেলায় বিক্ষোভ ; সব জেলাতেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এর আঁচ রিপোর্ট গোয়েন্দাদের ; চিন্তার ভাঁজ নবান্নের কর্তাদের কপালে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : ১৬ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কাউন্সিলারদের সভায় কাটমানি নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন । আর ১৮ জুন থেকে শুরু হয় কাটমানি ফেরত দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ । শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনে ৩৮ জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে , হামলা হয়েছে কাটমানি ফেরতের দাবিতে । বার বার প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে অভিযোগ থাকলে প্রশাসনকে জানান । কিন্ত মানুষ নিজের হাতে অভিযোগেরন বিচার শুরু করেছে । ফলে রাজ্য জুড়ে চূড়ান্ত অস্থিরতা শুরু হয়েছে ।

তাই দেখা যাচ্ছে ৯দিনে ১০টি জেলায় কাটমানিবিক্ষোভ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয়েছে হুগলি,বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানে। পুলিশের একাংশ জানাচ্ছেন, হুগলির তিনটি লোকসভা আসনের মধ্যে দুটি এবারও তৃণমূল দখল করেছে। বীরভূমের দুটি এবং পূর্ব বর্ধমান আসনটিও তৃণমূল জিতেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলার পর  কাটমানি চেয়ে ক্ষোভ  সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এই তিনটি জেলায়। নবান্নের শীর্ষ কর্তাদের মতে, ‘‘খুবই চিন্তার বিষয়। কারণ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া, কোচবিহার, মালদহের মতো জেলায় বিজেপি জিতলেও কাটমানি বিক্ষোভ তুলনায় কম। যদি সংগঠিত ভাবে সেখানেও জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরত চাওয়া শুরু হয়, তা সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।’’ 

পুলিশ জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কোচবিহার, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়াতে একটি করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু যে কোনও সময় বিক্ষোভ আরও ছড়াতে পারে। রাজ্য গোয়েন্দা কর্তাদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ১৬ জুন কাটমানি ফেরত দিতে বলেছিলেন। ১৮ জুন থেকে নেতাদের ঘেরাও করে 

বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বীরভূমের চাতরা গ্রামের নেতা ত্রিলোচন মুখোপাধ্যায় ১৪১ জন গ্রামবাসীকে ১৬৪১ টাকা করে মোট লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা গত ২৫ জুন ফেরত দিয়েছেন। এর পর থেকেই জেলায় জেলায় বিক্ষোভের সুর আরও চড়েছে। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, এখনও টাকা চাওয়ার ঘটনা মূলত গ্রামীণ নেতাদের ঘিরে শুরু হয়েছে। গ্রাম থেকে শহরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে টাকা ফেরতের দাবি। 

ফলে চিন্তায় পুলিশ স্বরাষ্ট্র দফতর। তবে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ প্রতিদিনের ঘটনাগুলি জানিয়ে নবান্নকে সতর্ক করেছে। কিন্তু কী ভাবে এর মোকাবিলা করা হবে, তার কোনও দিশা সরকার জেলা প্রশাসন পুলিশকে জানাতে পারেনি বলে নবান্ন সূত্রের খবর। দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের এডিজি(আইনশৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিংহ জানিয়েছিলেন, কাটমানি সম্পর্কিত অভিযোগ এলে সরকার জেলা প্রশাসনের কাছে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পাঠাবে। পাশাপাশি ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অর্থ তছরূপের মামলাও করবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত উত্তর দিনাজপুর ছাড়া আর কোথাও ধরনের অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment