কলকাতা 

প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়ার পর এবার মহিলা বক্সারকে কলকাতার রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে হেনস্থার অভিযোগ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কয়েক দিন আগে রাতের কলকাতায় প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া উষসী সেনগুপ্ত কয়েকজন যুবকের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন । কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় হেনস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলকেই গ্রেফতার করা হয় । পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় । এরপর পুলিশ কমিশনার কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেয় এ ধরনের অভিযোগ এলে দ্রূত ব্যবস্থা নিতে । কিন্ত পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ যে অধস্তন কর্মীদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না তা আরও একবার শুক্রবার প্রমাণিত হল ।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের সামনেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এক মহিলা বক্সারকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল কলকাতা শহরে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মীর সামনে ঘটনাটি ঘটা সত্ত্বে হেনস্থাকারীকে পাকড়াও করা দূরে থাক, ওই মহিলা বক্সার সাহায্য চাইলে তাঁকে থানায় যাওয়ার ‘পরামর্শ’ দিয়ে দায় এড়িয়েছেন ওই পুলিশ কর্মী!

তাইওয়ানে পেশাদার বক্সিং চ্যাম্পিয়ন  বক্সার সুমন কুমারীর বাড়ি খিদিরপুর এলাকায়। তিনি রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের অস্থায়ী কর্মী। তিনি সোস্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন, অন্য দিনের মতো এ দিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি নিজের স্কুটিতে চেপে মহাকরণে তাঁর অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় মোমিনপুর মোড়ের কাছে এক যুবক তাঁর সামনে এসে পড়েন। সুমন বলেন, ‘‘ওই যুবক বাস ধরার চেষ্টা করছিলেন। আমার স্কুটির সামনে দিয়ে যেতে গিয়ে সামান্য আটকে যান। আর তাতেই তিনি মেজাজ হারিয়ে বাসে ওঠার সময় আমার উদ্দেশে গালিগালাজ শুরু করেন।’’ সুমনের অভিযোগ, তিনি তখন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন, তত ক্ষণে বাসটি ছেড়ে দেয়।

সুমন তখন বাসটির পিছন পিছন যান। পরের স্টপেজে বাস থামলে তিনি স্কুটি থামিয়ে ওই যুবককে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি গালিগালাজ করেছেন? সুমনের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই ওই যুবক বাস থেকে নেমে এসে তাঁকে মারার চেষ্টা করেন। তাঁর গলা চেপে ধরেন। সুমন বলেন, ‘‘যখন ওই যুবক আমার গলা চেপে ধরেছেন, তখন কয়ের মিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক পুলিশ কর্মী। আমি তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে চিৎকার করি। কিন্তু তিনি কোনও সাহায্য না করে আমাকে বলেন থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে। তিনি কোনও সাহায্য করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।” পুলিশের কাছ থেকে সাহায্য না পেয়ে সুমন নিজের মতো করে ওই যুবককে প্রতিরোধ করেন। ফলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় দু’জনের মধ্যে। অভিযোগ, তখনও নিছক দর্শক ছিলেন ওই পুলিশ কর্মী। বরং এলাকার মানুষ ছুটে এসে দু’জনকে ছাড়িয়ে দেন।

এর পর নিজের দফতরে পৌঁছন সুমন। তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেন।

অবশ্য সুমনের অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয়েছে পুলিশ । ইতিমধ্যে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে । তদন্ত চলছে । ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment