দেশ 

নির্বাচনী ইস্তেহারে সেনার সপক্ষে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়নেই সংসদে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের ইস্তেহারে সেনা নিয়ে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার বাস্তবায়নে সংসদে বিরোধী দল হয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস । আবার অনেক ক্ষেত্রে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে ।

মোদী সরকার সেনার নামে রাজনীতি করলেও তাদের সার্বিক উন্নয়নে কংগ্রেস যে এখনও চেষ্টা করে চলেছে সেই বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী । সংসদের গত চারদিনের পরিসংখ্যান নিলে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে । আসলে কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী উদ্দেশ্য স্পষ্ট । তিনি কংগ্রেসে নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলি নতুন করে সংসদে সামনে আনার চেষ্টা করছে । আর সেই চেষ্টাকে সফল করতে সংসদে সেনার স্বার্থ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছে কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরি ।

দলীয় সূত্রের মতে, সনিয়া গাঁধীর নির্দেশ, জাতীয়তাবাদের কৃতিত্ব সব থেকে বেশি দাবি করতে পারে কংগ্রেসই। স্বাধীনতার আন্দোলনের পুরোধা কংগ্রেস। অথচ সব থেকে বেশি ঢাক পেটায় বিজেপি। জাতীয়তাবাদের বিষয়টিকে ফের জাগিয়ে তুলতে হবে কংগ্রেসকে।

সনিয়ার নির্দেশের পরেই লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী চলতি সপ্তাহেই সেনা সংক্রান্ত একের পর এক বিষয় নিরন্তর উত্থাপন করে চলেছেন। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় ধন্যবাদজ্ঞাপক বিতর্কের সময়েই অধীর বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ করার দাবি তুলেছিলেন। তাঁকে ‘ভারতশ্রী’ দেওয়ার দাবিও তোলেন প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সামনে লোকসভায় ফের সরব হন প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার বিরুদ্ধে। যেখানে বলা হয়েছে, জখম হওয়া কোনও ফৌজি কাজ ছাড়লেও তাঁর পেনশনে কর বসবে। অধীর বলেন, ‘‘যে সরকার বারবার সেনার কথা বলে ভোটে লড়েছে, আজ তাঁদের উপরেই কর চাপাচ্ছে। এটি বেদনাদায়ক। ‘এক পদ, এক পেনশন’-এ পাঁচ ধরনের পেনশন রয়েছে। সেটিও শোধরানো জরুরি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারও মৃত্যু হলে শহিদের মর্যাদা দিতে হবে। সেনাদের সঙ্গে অবিচার হওয়া উচিত নয়।’’ সনিয়া গাঁধী সংসদে দলের সাংসদদের আক্রমণাত্মক হতেই বলছেন বারবার। লোকসভায় মাত্র ৫২ জন সাংসদ। তাঁদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে সনিয়ার নির্দেশ, সংসদে থাকতে হবে। বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধে।

সেনা নিয়ে কংগ্রেসের চাপে আজ জবাব দিতে হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকেও। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সেনার কদর করি। ‘এক পদ, এক পেনশন’ আমাদের সরকারেরই করা।’’ জখম ফৌজিদের পেনশন নিয়ে অধীর যে আপত্তি তুলেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

চারদিনে সংসদে কংগ্রেসের দাবির সঙ্গে কংগ্রেসের নির্বাচনী েইস্তেহার দেখলে স্পষ্ট কংগ্রেস আসলে নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে সংসদে তুলে ধরছে ।

১। উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণা করা হোক। ( এটা তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত)

২। ‘এক পদ, এক পেনশন’-এ ৫ রকম পেনশন না-দিয়ে একটিই পেনশন হোক। ( এটা কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারের আছে )

৩। জখম ফৌজি কাজ ছেড়ে দিলে যেন পেনশনে কর আরোপ না হয়। ( এটা কংগ্রেসের ইস্তেহারে আছে)

৪। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারও মৃত্যু হলে ‘শহিদ’-এর মর্যাদা দেওয়া হোক। ( এটাও কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে ছিল)


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment