দেশ 

১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা , বন্ধের পথে বি এস এন এল ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিএসএনএল কি বন্ধ হতে চলেছে ? সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের সময় এই খবরটা বের হয়েছিল তখন তা অস্বীকার করা হয়েছিল । এখন আর এটা জল্পনা নয়, তা সত্যি হবার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে । দেখা দিয়েছে সংস্থাটির ঘাড়ে ঋণের বোঝা অত্যন্ত ভারী হয়ে যাওয়ায়। কিছু দিন আগে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাভ হত যে সংস্থার, সেই বিএসএনএলের ঘাড়ে এখন চেপে বসেছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই বোঝাটা এতটাই ভারী যে বিএসএনএলের বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

রিলায়্যান্স জিও বাজারে আসার পরেই সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিকম অপারেটরদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে গত কয়েক বছর ধরেই। তার মধ্যে বিএসএনএলের হালই সবচেয়ে খারাপ। পরিষেবা ও উন্নত প্রযুক্তির নিরিখে বিএসএনএল উত্তরোত্তর পিছিয়ে পড়তে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে। অন্য টেলিকম অপারেটররা যখন ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক নিয়ে ভাবছে, তখন বিএসএনএল মেতে রয়েছে সারা দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে।

সংস্থার পদস্থ কর্তারা বলছেন, ঋণের বোঝায় এতটাই কাহিল হয়ে পড়েছে বিএসএনএল যে, কর্মীদের বেতন দেওয়াটাই সংস্থার চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মীদের বেতন-সমস্যা মেটাতে বিএসএনএল দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু কেন্দ্র এ ব্যাপারে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলির শরণাপন্ন হয়েছে।

ওই ভাবেই কর্মীদের বেতন মেটাতে টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। বিএসএনএল কর্মীদের শুধু জুনের বেতন মেটাতেই কেন্দ্র দিয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী কয়েক মাস সংস্থার কর্মীদের বেতন ও কাজের জন্য বিএসএনএলের তরফে কেন্দ্রের কাছে চাওয়া হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

বিএসএনএলের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘‘কেন্দ্রের কাছ থেকে ওই আড়াই হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেলে আগামী ৬ মাস অন্তত বিএসএনএলকে কোনও চিন্তা করতে হত না। কিন্তু কেন্দ্রের কাছ থেকে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও আশ্বাস মেলেনি। তার উপর বিএসএনএলের কাঁধে রয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা। যা দেখে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলিও আর বিএসএনএলকে ঋণ দিতে চাইবে না বলেই মনে হয়।’’

খবর, টেলিকম দফতরও বিএসএনএলকে ঋণের জন্য আর রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কগুলির কাছে যেতে বারণ করেছে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত ১০ বছর ধরেই এই সমস্যায় ভুগছে বিএসএনএল। মূলত ভুল সরকারি নীতির জন্যই। নতুন পরিকাঠামো সম্পর্কে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার অভাবের জন্য।

‘‘অন্য টেলিকম অপারেটরদের উপর ভরসা রাখাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে বিএসএনএলের গ্রাহকদের পক্ষে’’, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment