অন্যান্য প্রচ্ছদ 

রমযান সাধনার মাস,ক্ষমার মাস,এবাদতের মাসঃ সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি

শেয়ার করুন
  • 176
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রমযান মাস উপলক্ষে বাংলার জনরব নিউজ পোটার্ল রোযা  নিয়ে দেশের বিশিষ্ট আলেমদের মতামত  ও লেখা নিয়মিত প্রকাশ করবে। যা পোটার্ল নিউজে এক ব্যতিক্রমি চিন্তাধারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এবার আমাদের পোটা্র্লে রমযান ও রোযা সম্পর্ক-্এ লিখেছেন বাংলা তথা উত্তর পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ জনাব সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি।

রমযান মাসে রোযা নতুন পায়গম নিয়ে হাজির হয়। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে রোযা হল তৃতীয় স্তম্ভ। ইমান,নামাজের পরই রোযা । সেদিক থেকে ইসলামধর্মালম্বীদের কাছে এর গুরুত্ব অসীম। কুরআন মজিদ থেকে জানা যায়,রোযা পালন করার রীতি নবী মুহাম্মদ (সা.)-র পূর্ব নবীদের আমলেও ছিল। নবীজি শাবান মাস থেকেই পবিত্র রমযানের প্রস্তুতি শুরু করে দিতেন। সাহাবি কেরামরাও সেই মত প্রস্তুত থাকতেন।এটা আল্লাহর কিতাবের মাসও বলা হয়। এই মাসেই কুরআনুল মজিদ নাজিল হয়েছিল। হুজুর(সা.) মতে এই মাসে আল্লাহর রহমত মানুষের প্রতি অফুরন্ত নাজিল হয়।রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এই মাসে আল্লাহর প্রতিটি মানুষের জন্য ক্ষমার ধারা বাড়িয়ে দেন। রমযান মাসে প্রতি দশদিন অন্তর আল্লাহ তাঁর বান্দাহর প্রতি তিনটি ধারা বর্ষণ করেন- রহমত,মাগফেরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে নিস্কৃতি প্রদান। রোযা শুরু হওয়ার প্রথম দশদিন রোযাদারদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয়,দ্বিতীয় দশদিন রোযাদারদের উপর মাগফেরাত নাজিল হয় আর শেষ দশদিন জাহান্নামের আগুন থেকে নিস্কৃতি প্রদান করা হয় রোযাদারদের। রোযা বলতে শুধু মুখের রোযা নয়,নিখাদ উপবাসও নয়। রোযা শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে রাখার নাম রোযা। এই মাসে গালিগালাজ করা নিষিদ্ধ গীবত করা নিষিদ্ধ,সবর ও ধৈর্য-র পরীক্ষা এই মাসে দিতে হয়। সেহরি-্ইফতার করা সুন্নাত। এই মাসে শরীরের প্রতিটি স্তরে রোযা পালন করতে হয়। চোখকে খারাপ জিনিস দেখা থেকে বিরত করতে হয়। হাত-পাকে সংবরণ করতে হয়।ক্ষুধা পিপাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এগুলিকে সংবরণ করার নামই রোযা।

এই মাসে আল্লাহ ৭০গুন সওয়াব বৃদ্ধি করে দেন।রিজিকের বৃদ্ধি হয়।কাজে বরকত দেখা যায়।রোযাদারদের সেহরি-ইফতার যেন হালাল রুজির হয়। এপ্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন অমুসলিমরাও হালাল রোজগারে ইফতার বা সেহরি খাওয়ালে তা বৈধ।তবে রোযাদারদের মনে রাখতে হবে তাকওয়া পরহেজগারি,রহমত,মাগফেরাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই রোযা রাখা। তাই এই মাসে সব সময় বিনম্র আচরন এবং আল্লাহর ভয়ে সংযত থাকা উত্তম। রমযান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ নামাজ পড়া হয়। মক্কা-মদীনার মসজিদেও ২০ রাকাত তারবীহর নামাজ কুরআন মজিদ খতমের মাধ্যমে পড়া হয়।খতম তারবীহ পড়া সুন্নাত।রোয়াদারদের এই মাসে অন্তত বেশি বেশি করে তসবীহ ও কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত।যাঁরা কুরআন পড়তে জানেন না,তাদের উচিত কুরআন পড়া মন দিয়ে শোনা। যিনি কুরআন পড়ছেন,আর যিনি কুরআন পড়া শুনছেন তাদের দুজনের সওয়াব সমান। তাই এই মাসে বেশি করে কুরআনের সঙ্গে নিজেদের আত্মস্ত করতে হবে।কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের জন্য ১০টি করে সওয়াব আছে।যেমন,আলিফ-লাম-মিম-এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্রিশটি সওয়াব উচ্চারনকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ হবে।

রমযানের সঙ্গে কুরআন মজিদের সর্স্পক খুব গাঢ়। ইমাম আবু হানিফা(রা.) রমযান মাসে দিনে এক খতম আর রাতে এক খতম কুরআন পড়তেন। এই মাসের গুরুত্ব এত বেশি যে আলেমে দ্বীনরা বলে গেছেন,রমযানকে যেন আমরা অবহেলা না করি। এই মাসে বেশি করে এবাদতের মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ রাখা উত্তম। এমন কী কোন ব্যক্তি কটু কথা বললে তাকে বলা, আমি রোযাদার তাই সবর এবং ধৈর্যই আমার কাছে প্রধান শক্তি। আসলে এই মাস হল সাধনার মাস,ক্ষমার মাস ও এবাদতের মাস।


শেয়ার করুন
  • 176
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment