আন্তর্জাতিক 

আগামী চার মাসের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিলে পাকিস্তানকে ‘ কালো তালিকাভুক্ত ‘ করার হুঁশিয়ারি এফএটিএফের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : আগামী চার মাসের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া  ব্যবস্থা না নিলে নিতে পাকিস্তানকে সব রকম সাহায্য বন্ধ করার এ  চরম হুঁশিয়ারি দিল দ্য ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। এই সময় কালের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হবে ইসলামাবাদ।

আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, এই চরম হুঁশিয়ারির পরও পাকিস্তান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে এবং কালো তালিকাভুক্ত হলে, আর্থিক দিক থেকে বিরাট ধাক্কার মুখে পড়বে ইমরান খানের সরকার। আর্থিক সঙ্কটে দীর্ণ পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিতে পারে বহু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন।

জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির অর্থের জোগান-সহ আর্থিক তছরুপ বা জালিয়াতি, দুর্নীতির মতো বিষয়ে নজরদারি ও তদারকি করে এফএটিএফ। ৩৭টি দেশের সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এই সংস্থার নির্দেশিকা, হুঁশিয়ারি বা ফরমান কার্যত রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির কাছে শিরোধার্য। এ হেন এফএটিএফ-এর হুঁশিয়ারির অর্থ, পাকিস্তানকে সন্ত্রাস দমনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে জঙ্গিদের আর্থিক সংস্থানের পাইপলাইন কাটতে সব রকম চেষ্টা করতে হবে। না হলে কালো তালিকাভুক্ত করে দিতে পিছপা হবে না এই সংস্থা।

গত বছরের জুনেই পাকিস্তানকে ‘ধূসর তালিকাভুক্ত’ করেছিল এফএটিএফ। সেই সময়ই নির্দিষ্ট করে ২৭টি পদক্ষেপ নির্ধারিত করে দিয়েছিল এই সংস্থা। তার পর গত বছরের অক্টোবরেই এফএটিএফ-এর প্লেনারি-তে এই নিয়ে পর্যালোচনা হয়। নির্ধারিত করে দেওয়া বন্দোবস্তগুলির মধ্যে পাকিস্তান কোন কোন ব্যবস্থা নিয়েছে, ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে আরও এক বার তা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করেনি বলে সেই সময় এফএটিএফ-এর হাতে তুলে দিয়ে দিয়েছিল ভারত। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার তথ্য তার মধ্যে ছিল অন্যতম। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ভারতের তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়ে সেই সময়ওপাকিস্তানকে ধূসর তালিকাতেই রেখে দেয় এফএটিএফ।

এফএটিএফ-এর সদস্য দেশগুলিও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারের মতো রাষ্ট্রপুঞ্জ নির্ধারিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান এখনও কোনও মামলা দায়ের করেনি। পাকিস্তান যদিও দাবি করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, জইশ-ই-মহম্মদ, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত-এর মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৭০০টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু ভারত-সহ এফএটিএফ-র অন্য সদস্য দেশগুলির বক্তব্য, পাকিস্তানের এই দাবির কোনও ভিত্তি নেই, স্বপক্ষে প্রমাণও নেই। জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা, জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কার্যত কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি।

কারণ কালো তালিকাভুক্ত হলে ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ড (আইএমএফ) বিশ্ব ব্যাঙ্ক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের মতো সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলিও বন্ধ করে দেবে আর্থিক সাহায্য। মুডিজ, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, ফিচ-এর মতো ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলির বিচারে খারাপ রেটিং উঠে আসবে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment