জেলা 

অশান্তির আগুনটা জ্বালিয়ে রাখার জন্য দায়ী কে? সেটায় জানতে চায় কাঁকিনাড়া -ভাটপাড়ার মানুষ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাস খানেক ধরে অশান্তি বিরাজ করছে ভাটপাড়া নৈহাটি এলাকায় । ভোটের আগে থেকে তেতে উঠেছিল ভাটপাড়া-কাঁকিনাড়া । প্রথমে ছিল এটা দুই দলের সংঘর্ষ এখন তা দুই সম্প্রদায়ের বিবাদে পরিণত হয়েছে । গত ঈদের এই এলাকার মানুষেরা আনন্দকে ভাগ করে নিতে পারেনি । প্রশাসন নির্বিকার । রাজনৈতিক দলগুলিও নিরব । এই অবস্থায় এই এলাকার মানুষের প্রশ্ন ভাটপাড়া-কাঁকিনাড়ার অশান্তি নেপথ্যে কে ? কে দায়ী এই অশান্তি জন্য ? কেন থামছে অশান্তি ? কারা জিইয়ে রাখতে চাইছেন এই অশান্তি ?

শুক্রবার দুপুরে বাজারের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরলুঠ হওয়া দোকানঘর দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘গত একমাসে দিন দোকান খুলতে পেরেছি গুনে বলে দিতে পারব। দোকান খুলতে পারলেও লাভ নেই। এই অশান্তির চোটে খরিদ্দার নেই।’’ একই অভিজ্ঞতা তাঁর মতো আরও অনেক ব্যবসায়ীর। তাঁদেরই একজন বলছিলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে তাঁদের ভাল ব্যবসা হয়। এবার তা শূন্যে নেমে এসেছে। শুনসান বাজারে রাতের অন্ধকারে সিঁদ কাটে চোরেরা। দিনের বেলায় টহল দেয় পুলিশ।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ , ‘‘১৯ মে ভাটপাড়া বিধানসভার উপ- নির্বাচনের দিন থেকে যে অশান্তি শুরু হয়েছে, তা চলছে এখনও।’’ ওই দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একটা দিনও যায়নি, যে দিন এই এলাকায় প্রকাশ্যে বোমাবাজি হয়নি। গত এক মাসের হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ জন। কিন্তু হিংসা থামার কোনও লক্ষণ নেই।

১৯ মে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক হিংসা শুরু হয়েছিল তা কোনও অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় দুই গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে পরিণত হয়। সেই হিংসার আগুনেই এখনও জ্বলছে গোটা এলাকা।

পেশায় রিলায়েন্স জুটমিলের কর্মী দিলীপ বলেন, ‘‘১৯ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত গোটা এলাকায় প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়ায় একদল দুস্কৃতী। তারা বাড়িতে বাড়িতে ভাঙচুর করে, আগুন ধরায়, অবাধে লুঠপাট করে। সেই দুস্কৃতীদের টার্গেট ছিল, যারা শিবির বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।দিলীপের মতো এলাকার একটা বড় অংশের অভিযোগ, ওই সময়ে পুলিশ সেই আক্রমণ প্রতিহত করা দূরে থাক, উল্টে বিনা কারণে পাকড়াও করেছে বিজেপি সমর্থকদের।

তাঁদের দাবি, ২৩ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েকদিন পর থেকে পাল্টা প্রতিরোধে নামে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। নির্বাচনের ফলাফল থেকে ততক্ষণে পরিষ্কার অর্জুন সিংহের হাত ধরে গোটা এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতার দখল নিয়েছে বিজেপি।

ভাটপাড়া থানা পেরিয়ে একটু এগোলেই রিলায়েন্স জুটমিলের পাশে ১৯ নম্বর গলি। সেখানকার বাসিন্দা মহম্মদ আশফাক। জুম্মার নমাজ সেরে ফেরার পথে প্রবীণ আশফাক বলেন, ‘‘লুঠপাট করছে দুপক্ষই।’’ তিনি কাছাড়িপাড়া বাজারের কয়েকটি দোকানের কথা বলে অভিযোগ করেন, ওই এলাকার মানুষ সব লুঠ করেছে। তিনি স্বীকার করেন, মিলের কুলি লাইনের বাসিন্দা অন্য পক্ষেরও অনেকের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। তাঁরা এলাকা ছাড়া। তিনি অস্বীকার করেননি, এলাকায় আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আনাগোনা বেড়েছে অনেক অচেনা লোকজনদের। রাজেশ বা দিলীপের মতো তাঁরও অভিযোগ, ‘‘পুলিশ কি করছে? তাঁরা কেন বহিরাগতদের ধরছে না?”

এ প্রসঙ্গে এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘‘দেখুন, এই অশান্তি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া মিটবে না। আমাদের দোষ আছে মানি, কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা নিজেরা সংযত না হলে এই লড়াই থামবে না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ ধরনের সংঘর্ষ দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু এখানে আশপাশের কোনও এলাকায় এই অশান্তি ছড়ায়নি। যা হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট জায়গাতেই। এর থেকেই স্পষ্ট, এই হিংসা খুব পরিকল্পিত, যেখানে রয়েছে রাজনৈতিক মস্তিস্ক। তাঁর মতোই অন্য এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ভোটের পর চার জন কমিশনার এলেন এখানে এক মাসে।তাঁর কথায়, ‘‘এক জন নিজের সদ্য পাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও বাড়াতে চাইছেন। অন্য পক্ষ চাইছে ক্ষমতার কেন্দ্রে কামড় মেরে সাংসদকে দুর্বল করতে। আর তাই তাঁদের কারও সদিচ্ছা নেই এই লড়াই থামানোর। দুপক্ষই মনে করছেন যে তাঁরা এই মেরুকরণের রাজনীতি থেকে নিজেদের কব্জির জোর বাড়াচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটা নাগাদ ভাটপাড়া থানায় পৌঁছন নতুন কমিশনার মনোজ বর্মা। তাঁর দিকে তাকিয়ে তাঁর অধস্তনদের একাংশ বলেন, ‘‘পুলিশের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। আমাদের বুকে বোমা পড়লে আমরাও গুলি চালাব। বোমার কোনও জাত নেই। সে যে পক্ষই ছুঁড়ুক না কেন।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment