কলকাতা প্রচ্ছদ 

বাংলায় বিজেপি-আরএসএসের মেরুকরণ রাজনীতি কোনদিন সফল হবে নাঃ সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি

শেয়ার করুন
  • 181
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন রাজভবনে মন্ত্রীর আবাসে দেখা হল সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির সঙ্গে।রাজ্যের গ্রন্থাগার দফতরের (স্বাধীন দায়িত্বে) মন্ত্রী এবং পরিষদীয় দফতরের তিনি প্রতিমন্ত্রীও বটে। তবে মন্ত্রীত্বের বাইরেও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির পরিচয় হল তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি। সেই সঙ্গে আমাদের রাজ্যের তো বটেই দেশের প্রথম সারির মুসলিম আলেমদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বাংলার জনরব দৈনিক পোর্টাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর এই প্রথম তার মুখোমুখি আমরা। স্বভাবতই দেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলার রাজনীতি প্রসঙ্গ এসে যায়। অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার কিছু কথা বাংলার জনরবেব পাঠকের জন্য আমরা তুলে ধরছি। আজ প্রথম কিস্তি।

প্রশ্নঃ বিজেপি-আরএসএস যেভাবে হিন্দুত্বকে প্রচার করে ভোট মেরুকরণের চেষ্টা করছে এ বিষয়ে আপনার অভিমত?

সিদ্দিকুল্লাহঃ আসলে হিন্দুত্ব শব্দটাকে নিয়ে বিজেপি-আরএ্সএস যা করছে তাতে দেশের সংহতির পক্ষে বিপজ্জনক। মূল কথা হচ্ছে দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেমন কোন উন্নয়ন করেনি।বরং তারা নোট বাতিল থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি করে কার্যত দেশের মানুষকে আরও বেশি করে সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। এরা মুখে জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে ভোট মেরুকরণের চেষ্টা করছে। এতে তারা কোথাও কোথাও সফল হচ্ছে বটে কিন্ত সেটা শেষ কথা নয়। সাধারণ মানুষের সাবির্ক উন্নয়ন করটাই রাজনীতিবিদদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। নরেন্দ্র মোদী মুখে যা বলছেন কাজে ঠিক তার উল্টো করছেন। উন্নয়ন না করতে পারার ব্যর্থতা থেকেই হিন্দুত্ব এখন মোদীর প্রধান আশ্রয় স্থল হয়ে উঠেছে।

প্রশ্নঃ মোদিজি সহ বিজেপিরা দাবি করছে স্বাধীনতার পর নাকি সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন  তাদের আমলেই হয়েছে?

সিদ্দিকুল্লাহঃ অবশ্যই ঠিক কথা বলেছেন, মোদিজির উন্নয়ন মানে নীরব মোদির উন্নয়ন,মোদিজির উন্নয়ন মানে বিজয় মালিয়ার উন্নয়ন।এরা কেন্দ্রীয় সরকারের মদতেই দেশের বাইরে চলে যেতে পেরেছে। দেশের ব্যাঙ্কগুলির হাজার হাজার কোটি টাকা  আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে গেছে আর সরকার সেই টাকা উদ্ধার করতে না পেরে এখন সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপাচ্ছে। এটিএমে টাকা তুলতে গেলে কর দিতে হচ্ছে,ব্যাঙ্কে আমার-আপনার টাকা আজ সুরক্ষিত নয়।ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে কর দিতে হচ্ছে আর তুলতে গেলেও কর দিতে হচ্ছে। এক কথায় গরীব-মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতি এই সরকার কোন দায়বদ্ধতা দেখায়নি।

প্রশ্নঃ আপনার চোখে উন্নয়ন বলতে কী ?

সিদ্দিকুল্লাহঃ উন্নয়ন বলতে আমরা বুঝি গরীব মেহনতি মানুষের সাবির্ক কল্যাণ।আদিবাসি-দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে সামনের সারিতে তুলে আনাটাই উন্নয়ন। মোদি সরকার তো বটেই দেশের এতগুলি রাজ্যে বিজেপি সরকার চালাচ্ছে তাদের উন্নয়নের এজেন্ড কী? এটা দেখলেই প্রকৃত উন্নয়নের গল্প সামনে আসবে। বিজেপি সরকার আদিবাসিদের উন্নয়নে কী করেছে কোন পরিকল্পনা দেখাতে পারবে। বরং তাদের আমলে আদিবাসিরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়েছে। প্রকৃত উন্নয়ন কাকে বলে তা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে মোদিজি শিখতে পারেন। তিনি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি পিছিয়ে  পড়া সম্প্রদায়কে সামনে সারিতে তুলে আনার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রশ্নঃ আরএসএস বিজেপি-র পরবর্তী লক্ষ্য বাংলা দখল,তারা কী মেরুকরণ রাজনীতির সাফল্য বাংলায় দেখাতে পারবে?

সিদ্দিকুল্লাহঃ না,কোনদিন পারবে না। কারণ বাংলার সংস্কৃতি কোনদিন উগ্র মৌলবাদি সংস্কৃতি ছিল না এবং আজও নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও ফজলুল হকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তাই বাংলার মাটিতে আরএসএস যতই চেষ্টা করুক না কেন তারা  এখানে হিন্দু-মুসলিমের বিভেদ ঘটাতে পারবে না। আসলে্ আরএসএস বরাবরই জাতীয়তাবাদের কথা বলে ঠিকই কিন্ত এরা স্বাধীনতা সংগ্রাম চলার সময় ব্রিটিশের গোলামি করেছে।স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএসের কোন ভুমিকা নেই। বরং আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখ্যযোগ্য ভুমিকা গ্রহণ করেছিল। আমাদের অনেক আলেম স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছিলেন।


শেয়ার করুন
  • 181
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment