দেশ 

ভোটে হারের পর আবার মানুষের দরবারে রাহুল ; কেরল থেকে যাত্রা শুরু যাবেন আমেঠিতেও , মানুষের উষ্ণ অর্ভ্যথনায় , কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক রাহুলের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দলের বিপর্যয় হয়েছে । কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে চান রাহুল গান্ধী । এই পরিস্থিতিতে আবার রাহুল গান্ধী মানুষের দরবারে হাজির হলেন । ভোটের ফল বেরোনোর পর তাঁর প্রথম সফর কেরলের  ওয়েনাডে । গান্ধী পরিবারের পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত আমেঠি এবার রাহুলকে বরণ করেনি কিন্ত ওয়েনাডে বরণ করে নিয়েছে তাঁকে। তাই ভোটে বিপর্যয়ের পর আজ প্রথম বার দিল্লির বাইরে বেরিয়ে ওয়েনাডেই গেলেন রাহুল গাঁধী।

গতকাল থেকেই কেরলে বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টির মধ্যেই গাড়ির ছাদ দিয়ে মাথা বার করে রাহুল হাত নেড়ে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে জানাতে এগোলেন। গাড়ির গতি ধীর হলেই ঘিরে ধরেছে ভিড়। রাহুল তাঁদের কথা দিলেন, ‘‘সংসদের ভিতরে পৌঁছে দেব ওয়েনাডের সমস্যাগুলির কথা। এই কেন্দ্রটির জন্য, এখানকার মানুষের জন্য কাজ করব। যে ভালবাসা আপনারা আমাকে দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ।’’ এরই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে রাহুলের ঘোষণা, ‘‘কংগ্রেস জানে, স্নেহ ও ভালবাসার মাধ্যমেই ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’’

রাহুল গান্ধী তিনদিনে সফরে কেরল এসেছেন । আজ ওয়েনাডের নিলম্বুর, এরানাডেও রোড-শো করবেন রাহুল। কথা বলবেন ইউডিএফ নেতৃত্বের সঙ্গে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, রাহুলের এই সফর বিধানসভার উপনির্বাচনে চাঙ্গা করবে দলকে।

কেরল সফর শেষ করেই রাহুল যাবেন আমেঠিতে । তাঁদের পৈতৃক কেন্দ্র যেখানে এবার তিনি হরে গেছেন । যদিও রাহুল কংগ্রেস সভাপতি থাকবে কিনা তা  নিয়ে সংশয় কাটেনি এ দিনও। দিল্লিতে দলের নেতাদের সঙ্গে বিশেষ একটা দেখাই করছেন না। কর্মসমিতি তাঁর ইস্তফার প্রস্তাব খারিজ করে তাঁর হাতেই দলের খোলনলচে বদলানোর দায়িত্ব চাপিয়েছে। কংগ্রেসের সূত্র জানাচ্ছে, কী ভাবে রাহুল সেই কাজ করবেন, তা নিয়ে এক গুচ্ছ লিখিত প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছে । এক, রাহুলকে এখনই দলের রাশ ফের হাতে নিতে হবে। যদি একান্তই চান, অন্য কেউ দল চালাক, সেই উত্তরসূরি বাছাই ও গড়েপিটে নেওয়ার দায়িত্বও তাঁর। দুই, নতুন কর্মী না-এলে কংগ্রেসের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো শক্ত। মাটির সঙ্গে যোগ আছে, এমন নেতাকর্মীদের খুঁজে বার করতে হবে। এর জন্য কয়েক মাসের প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। তিন, দলের কর্মসমিতি থেকে যাঁদের ইচ্ছে বাদ দিন রাহুল। সেই নেতাদের তুলে আনুন, যাঁরা একুশ শতকের উপযোগী ভাবনা জোগাতে পারবেন। কারণ, শুধু অতীত মেলে ধরে আজকের প্রজন্মকে কাছে পাওয়া কঠিন। বিজেপিও সেটা করে না। চার, পচমঢ়ী অধিবেশনের পথ ধরে ‘একলা চলো’ পথেই যেতে হবে এখন থেকেই। ভোটের আগে টনক নড়লে লাভ নেই। দীর্ঘমেয়াদে এটাই কংগ্রেসকে ফায়দা দেবে।

দলের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘দল পালাবদলের পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার গতি একটু ঢিমে হলেও হারের কারণের উৎসগুলি খতিয়ে দেখে রোগ নিরাময়ের আসল ওষুধটি খুঁজে বার করতেই হবে।’’ রাহুলকে বাদ দিয়ে কি সেটি হবে? অভিষেকের জবাব, ‘‘একশো ভাগ রাহুল গাঁধীকে সঙ্গে নিয়েই হবে। তিনিই কংগ্রেসের সভাপতি।’’

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment