দেশ 

রাজনাথকে বাদ দিতে গিয়ে মোদী-শাহ আরএসএসের নজরে ; চাপে নতুন কমিটি গঠন , সর্তক আরএসএস ও রাজনাথ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মোদীর নাম করে ভোটে জিতেও স্বস্তিতে নেই অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী । বিজেপি সরকারের আসল চালিকা শক্তি যে আরএসএস তা আরও একবার প্রমাণ পাওয়া গেল । মাত্র দুদিন আগেই মন্ত্রীসভা পরিচালনার জন্য আটটি কমিটি গঠন করা হয় । সব কটি কমিটিতে অমিত শাহ ঠাঁই পেলেও প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং ঠাঁই পাননি । তাঁকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে বাদ রাখা হয় । এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই আবার রাজনাথ ওই কমিটিগুলি নেওয়া হয় । মনে করা হচ্ছে আরএসএসের হস্তক্ষেপেই রাজনাথকে কমিটিতে নিতে বাধ্য হলেন মোদী শাহ ।

কয়েকদিন আগেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের প্রবল ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করতে হবে। সরকারের ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্ঘ ইতিবাচক পরামর্শ দেবে।গত কাল রাতেই রাজনাথের দফতর থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তাঁকে কমিটি থেকে দূরে রাখলেও তিনি ইস্তফা দিতে চাননি। সঙ্ঘও হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে। আর তার জের চলল আজ দিনভরও। বিজেপির কিছু নেতা যা ঘরোয়া মহলে বলছেন, বিরোধী নেতারাও তা বলতে শুরু করেছেন— ‘‘আসলে মোদী-অমিত জুটির মুখোশ এক সপ্তাহেই খুলে গেল। রাজনাথ সিংহও সতর্ক হয়ে গেলেন। সঙ্ঘ নেতৃত্বও। দলে চাপা অসন্তোষ তো ছিলই। গত কালের ঘটনায় ভবিষ্যতের লড়াইয়ের ভিতটা তৈরি হয়ে থাকল।’’

এদিকে রাজনাথ সিংহ নিজের ক্ষমতা দেখালেন গতকাল মন্ত্রীসভার কমিটিরি বৈঠক করলেন নিজের বাড়িতে । সেখানে অমিত শাহকে যেতে বাধ্য করলেন । মোদী মন্ত্রীসভার কমিটি গঠন নিয়ে যে রাজনীতি শুরু হল তাতে যে ক্রমাগত আরএসএস হস্তক্ষেপ করবে তা বলাই বাহুল্য । কারণ এই ঘটনা থেকে মোদী শাহ-র উদ্দেশ্য নিয়ে সর্তক হয়ে গেলেন রাজনাথ ও আরএসএস কর্তারা বলে রাজনৈতিক মহর মনে করছেন ।

এদিকে কমিটি থেকে রাজনাথের বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগের আঙুল মোদী-শাহের দিকে উঠতেই বলা হয় ,‘‘প্রধানমন্ত্রী জানতেনই না তালিকায় রাজনাথের নাম বাদ পড়েছে। নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করেছেন।’’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে আড়াল করতে আবার প্রশ্ন উঠে গেল  প্রধানমন্ত্রী যদি না জানেন, তা হলে রাজনাথের ডানা ছাঁটার সিদ্ধান্ত কি অমিত শাহের? সরকারে অমিত যে ভাবে ধাপে ধাপে ক্ষমতাধর হয়ে উঠছেন, তাতে কি মোদীর সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব হচ্ছে? তা না হলে মন্ত্রিসভার কমিটির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ‘অজান্তে’ হয় কী করে?

জেডি(ইউ)-এর পবন বর্মার ঠেস— ‘‘অমিত শাহকে কেন উপপ্রধানমন্ত্রী করে দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী?’’ লালকৃষ্ণ আডবাণীর একদা সহযোগী সুধীন্দ্র কুলকার্নির মতে, ক্ষমতার শীর্ষে দু’জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি থাকতে পারেন না। গত কাল থেকেই দিল্লিতে একটি রসিকতা মুখে মুখে ঘুরছে, ‘‘অমিত শাহ প্রথমে লালকৃষ্ণ আডবাণীর আসন কেড়েছেন, তার পরে রাজনাথের মন্ত্রক আর এখন অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঘরও কব্জা করতে চলেছেন।’’

অবশ্য রাজনাথ সিংহের শিবির গোটা ঘটনায় কোনও ‘নতুনত্ব’ দেখছে না। পাঁচ বছর আগে রাজনাথের থেকে দায়িত্ব নিয়ে বিজেপির সভাপতি হয়েছিলেন অমিত শাহ। নরেন্দ্র মোদী সরকার তখন সবে ক্ষমতায় এসেছে। হঠাৎই রাজনাথ সিংহের ছেলে পঙ্কজের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা অভিযোগ ভেসে উঠল। ক্ষিপ্ত রাজনাথ তখন প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, অভিযোগ সত্য হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে প্রধানমন্ত্রী দফতর ও বিজেপি সভাপতির পক্ষ থেকে সেই সময় লিখিত বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, রাজনাথের ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। কিন্তু রাজনাথ শিবিরের নেতারা এখনও মনে করেন, পঙ্কজের বিরুদ্ধে সে সময় গুজব ছড়ানোর নেপথ্যেও ছিলেন মোদী-শাহ জুটি। আর বিবৃতি দিয়ে সেই গুজবকে আরও পল্লবিত করার কৌশলও তাঁদেরই।

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment