জেলা 

গাজলডোবায় আন্দোলনরত কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জলপাইগুড়ির গাজলডোবাতে সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে যে কৃষক আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে  বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। এদিন বিক্ষোভকারী কৃষকরা কালো পতাকাও দেখান তাঁকে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী সমর্থকরাই কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। পুলিশের দাবি, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছে বিজেপি।

কৃষকদের অভিযোগ, ‘‘জমিতে ফসল রয়েছে আমাদের। বাদাম, কচু সব মাঠেই। অথচ পুলিশ আমাদের মাঠে যেতে দিচ্ছে না। ফসল মাঠে নষ্ট হচ্ছে। মাঠে যেতে গেলে পুলিশ আমাদের হুমকি দিচ্ছে, গ্রেফতার করবে।’’

কৃষকদের দাবি, বাম আমলে ওই জমির পাট্টা তাঁদের দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকার তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার কৃষকরা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ওই বোর্ড উপড়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের জানানো হয়, পর্যটন মন্ত্রী এবং জেলাশাসক তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বৃহস্পতিবার মন্ত্রী গৌতম দেব আসেননি। তিনি শুক্রবার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। কিন্তু আন্দোলনকারী কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যত ক্ষণ না সরকার চিঠি দিয়ে ডাকছে তত ক্ষণ তাঁরা কোনও আলোচনায় অংশ নেবেন না। ওই সময় কৃষকরা তিস্তা সেচ খালের পাশে হাওয়া মহলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। সেই সময় গৌতম দেবের কনভয় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি কৃষকদের দেখে গাড়ি থামিয়ে কথা বলতে গেলে কৃষকরা ‘গৌতম দেব গো ব্যাক’, ‘দালাল’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁকে কালো পতাকা দেখান আন্দোলনকারী কয়েকশো কৃষক। এর পর মন্ত্রী সেখান থেকে সোজা চলে যান ‘ভোরের আলো’তে।

গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে শাসক দল তৃণমূলের দাবি। তবে বিজেপির কৃষক মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরুণ মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা কৃষকদের এই আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছি। কারণ, রাজ্য সরকার কৃষকদের ঠকিয়ে তাঁদের জমি নেওয়ার চেষ্টা করছে।” এ দিন অরুণ মণ্ডল-সহ আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, ‘‘সরকার এখানে দু’টি দাগ নম্বরে ৫৫০ একর এবং ২০০ একর, সব মিলিয়ে ৭৫০ একর জমি চিহ্নিত করে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করবেন না। অথচ ঘুরপথে সেটাই তিনি করছেন। কারণ ওই ৭৫০ একর জমির পুরোটাই পাট্টা জমি। সেখানে বাম আমলে কৃষকরা পাট্টা পেয়েছেন। তাঁদের সেই চাষের জমি কেড়ে পর্যায় ক্রমে কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।”

গজলডোবা মিলনপল্লি ভূমি রক্ষা কমিটি-র চেয়ারম্যান নকুল দাস পরিষ্কার বলেন, ‘‘আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। কোনও ভাবে সরকারের চাপের কাছে মাথা নোয়াব না। আমাদের পাট্টা পাওয়া জমি কোনও ভাবেই অধিগ্রহন করতে দেব না।” তিনি বলেন, ‘‘আজ বৈঠক করে ঠিক করেছি, আমরা মাঠে যাব। পুলিশ বাধা দিলে তা প্রতিরোধ করব। ওই জমিতে চাষ করা আমাদের অধিকার।”

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment